৫৭ ধারা মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়: তথ্যমন্ত্রী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

৫৭ ধারা মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। ফাইল ছবি

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ‘গণতন্ত্রের বন্ধ কপাট খুলে দিন’ বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ রোববার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা মানবাধিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

এসময় মন্ত্রী বলেন,  সাইবার অপরাধ দমন করতে সরকার নতুন আইন করছে। বিশ্বের উন্নত গণতন্ত্রের দেশের সঙ্গে মিলিয়ে এ আইন তৈরি হচ্ছে। এতে নারী-শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হবে।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।”

এই ধারায় অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর ও সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড।

উল্লেখ, গত ১৬ আগস্ট রাতে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের বাসা থেকে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। পরে ফরিদপুরে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় তাকে  গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রবীর সিকদারকে গ্রেপ্তারের পর আইনজীবী স্বপন পাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জীবনহানির আশঙ্কা প্রকাশ করে তার জন্য মন্ত্রীকে দায়ী করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন প্রবীর সিকদার। এতে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এরপরে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ধারা বাতিলের দাবি করে গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

তাদের মতে, তথ্য প্রযুক্তির ৫৭ ধারায় বাক্স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে। যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।

এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ