ওষুধে মোটা গরুর মাংসে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল

ওষুধে মোটা গরুর মাংসে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি

ওষুধে মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষও মোটা হয়ে যায়। পাশাপাশি মোটাতাজাকরণের ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থ শরীরে ঢুঁকলে মানুষের কিডনি, লিভার, হৃৎপিণ্ডসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ে।

গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে পবার গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকেরা।ছবি: সংগৃহীত

গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে পবার গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা।ছবি: সংগৃহীত

শনিবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে  বক্তারা এসব কথা বলেন। এর আয়োজন করে পবা নিজেই।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বক্তারা বলেন, অতি লাভের জন্য কিছু অসাধু মানুষ কোরবানির গরু মোটাতাজা করছে। আর  এ মাংস খেয়ে প্রতিবছর মানুষ দুঃখজনক পরিণতি শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে এর তীব্র শিকার শিশু ও গর্ভবতী নারী। এ ধরনের অপরাধ হচ্ছে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই কর্মকাণ্ড থামাতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।একইসঙ্গে দেখতে মোটাতাজা, কিন্তু নির্জীব, শ্লথ ও ক্লান্ত দেখাচ্ছে—এরকম গরু কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে জনসাধারণকেও।

বক্তারা বলেন, গরু মোটাতাজা করার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিতে ইউরিয়া, চিটাগুড়, ধানের খড় মিশিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। এতে গরুর  মোটাতাজা হতে ৪-৫ মাস সময় লাগে। কিন্তু আসন্ন ঈদে কুরবানি উপলক্ষে অধিক মুনাফার লোভে গরু মোটাতাজাকরণে বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। লোভী ব্যবসায়ীরা ৩ সপ্তাহ থেকে ২ মাসের মধ্যে গরুকে মোটা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছে। ওষুধ ও রাসায়নিকের প্রভাবে গরুর শরীরে পানি ও তরল পদার্থ জমা হতে শুরু করে। দ্রুত গরুকে মোটা দেখাতে থাকে। এই গরু বেশি দিন বাঁচে না। অস্বাভাবিকভাবে মোটা করা এই সব গরু দেখতে নির্জীব ও গতি শ্লথ হয়ে যায়। এদের ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। আচরণে অত্যন্ত ক্লান্ত ভাব দেখায়।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পশু খামার এবং পশুর হাটে নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা করা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী স্থানীয় ভাবে বছরব্যাপী পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, স্থল বন্দরে আমদানি করা গরু পরীক্ষা করা, পশুর হাটে পশুচিকিৎসকদের টিম দিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেন।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব চিকিৎসক লেলিন চৌধুরী। পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান, অধ্যাপক আবু সাঈদ, পুষ্টি তত্ত্ববিদ সুমাইয়া ইসলাম, বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক জাতীয় কমিটির সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম, পবার নির্বাহী সদস্য শাহীন আজিজ, আবুল হাসনাত, পবার সহ-সম্পাদক মো. সেলিম প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ