নো ভ্যাট: অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ২২ আগস্ট
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বিবিধ

নো ভ্যাট: অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ২২ আগস্ট

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট কমানো হবে না বলে গত ১৪ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বক্তব্য রেখেছেন তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও তার কূশপুত্তলিকা দাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নো ভ্যাট অব এডুকেশন।

arifআজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন নো ভ্যাট অব এডুকেশন এর মুখপাত্র ফারুক আহমাদ আরিফ।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী, নাঈম ইসলাম, জয় বনিক প্রমুখ।

আরিফ বলেন, বাংলাদেশের মোট শিক্ষার্থীর ৬৩ শতাংশ প্রাইভেট সেক্টরে পড়াশোনা করছে। তারা নিজের বাবা-মার অর্থ খরচ করে পড়ালেখা করে যাচ্ছে। সরকার এই শিক্ষার্থীদের উপর ভ্যাট আরোপ করে সবাইকে মুর্খতার যুগে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে চায়?

মুখপাত্র বলেন, অর্থমন্ত্রী ১৪ আগস্ট সিলেটে শিক্ষা খাতে ভ্যাট নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তা শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদসহ দেশের আপামর জনসাধারণের সাথে উপহাসের সামিল। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগছে। তারা আজ এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে।

আরিফ দুই দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, (১) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের উপর আরোপিত ৭.৫% ভ্যাট প্রতাহারের দাবিতে ও অর্থমন্ত্রীর উপহাসমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে ২২ আগস্ট শনিবার অর্থমন্ত্রীর কূশপুত্তলিকা দাহ। (২) আগামী ২৩-২৭ আগস্ট পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী বরাবর ৭.৫% ভ্যাট প্রতাহারের দাবিতে (শিক্ষা হোক ভ্যাটমুক্ত/সবার জন্য উন্মুক্ত) SMS প্রেরণ, এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

নো ভ্যাট অন এডুকেশন এর পক্ষে থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকার ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেছে। এই অন্যায়-অত্যাচারিতভাবে আরোপিত ভ্যাট প্রতাহারের দাবিতে গত দুইমাস ধরে প্রাইভেট সেক্টরের তথা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম শিক্ষার্থীরা একটি প্ল্যাটফর্মে এসে এতটা সুসংগঠিতভাবে তাদের দাবি তুলে ধরছে।

মুখপাত্র বলেন, ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র গ্রহণ করে রীতিমত ঘোষণা করে যে, রাষ্ট্র তাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে উচ্চশিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখি আইনত অলাভজনক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এ লাভজনক হয়েছে। তার ফলস্বরূপ সেই বছরই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ৪.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। তার বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীরা এক ধরনের স্বতস্ফুর্ত আন্দলোনের মধ্যে দিয়ে দাবি আদায় করে এনেছিল। কিন্তু সেই আন্দোলনের কোন দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর পড়েনি। যে কারণে সরকার বাহাদুরের অর্থমন্ত্রী আবারো শিক্ষায় দ্বিগুণ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছেন এবং ছাত্রসমাজকে আবারো শূন্য থেকে সংগঠিত হয়ে প্রতিবাদ জানাতে হচ্ছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, সাধারণ ছাত্র ও গণমাধ্যমগুলোর চাপে সংসদে আলু পটলের মত দরকষাকশি হয়ে তা ৭.৫% এ নেমে আসে। গণবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের এ বহুপুরনো কৌশল।

নো ভ্যাট অন এডুকেশন এর পক্ষে থেকে বলা হয়, গত দুই মাসের আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীরা No Vat On Education প্ল্যাটফর্ম থেকে ইতোমধ্যে সরকারকে ৫-৩১ জুলাই পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল। তা ছাড়া ৫দিন সময় বেঁধে দিয়ে (গত ৫-১০ আগস্ট পর্যন্ত) ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। কিন্তু তিনি কোন ধরনের সিদ্ধান্ত বা আশ্বাস এখনো দেননি।

মুখপাত্র বলেন, অপরদিকে ১৩ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থেকে পদযাত্রা করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। তাতে পুলিশের অযাচিত কাঁটাতারের বাধা এবং লাঠিচার্জে ১৫জন শিক্ষার্থী আহত হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমান সরকার এতটাই একগেয়ামী এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ পরিপন্থী ভূমিকায় রয়েছে যে তারা ছাত্রদের সাংবিধানিক অধিকারের ন্যায্য দাবির ভাষা বুঝতে অক্ষম। এতে প্রতিয়মান হয় যে, শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে সরকার ছাত্রসমাজের দুর্বলতা বলে মনে করছে।

তিনি বলেন, তার ফলস্বরূপ আমরা দেখেছি গত ১৪ আগস্ট সিলেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, (নতুন অর্থ বছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর যে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করা হবে না। নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট দিতে হবে। শুক্রবার সকালে সিলেটের বাগবাড়ি এলাকায় জাতীয় শোক দিবসের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, যত আন্দোলনই হোক না কেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট কমানো হচ্ছে না। ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের আন্দোলনে আমার কোনো সমর্থন নেই। তারা ৫০ হাজার, ৩০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারে। আর মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট কেন দেবে না? যুগান্তর www.jugantor.com/current-news/2015/08/…/307878) অন্যান্য প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক, অনলাইন পোর্টাল ইত্যাদি।

মুখপাত্র বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক এবং দুঃখজনক।

আরিফ সকলের সচেতন দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবগত করাতে চাই অর্থমন্ত্রীর উপহাস আমাদের মধ্যে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করেছে। আমরা ছাত্ররা দাবি তুলেছিলাম ভ্যাট প্রত্যাহার আর অর্থমন্ত্রী বলেছেন না কমানোর কথা। রাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি যখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষদের দাবির প্রতি ওয়াকিবহাল না, তখন তিনি আমাদেরও উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা ধৈর্য ধরে ন্যায্য দাবি আদায় করে ঘরে ফিরে যাবো। কারণ, রাষ্ট্র ব্যবস্থা যখন সকল মধ্যবিত্ত্ব, নিম্নবিত্ত্ব জনগণের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিতে বদ্ধপরিকর, তখন আমাদেরকে ধৈর্য ধরে সুসংগঠিত হতে হবে। আমরা যেমন রাজপথে আন্দোলন করব তেমন আইনি লড়াইও চালিয়ে যাব। এই আন্দোলনের ভিত্তিভূমি শিক্ষার পণ্যায়ন বিরোধী গণশিক্ষার দর্শনের সাথে জড়িত। তাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি আদায় করা। এর জন্য প্রয়োজনে আমরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন, গণঅনশনের মতো কঠোর কর্মসূচিতেও যেতে রাজি প্রস্তুত।

আরিফ বলেন, ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি আদায়ের ওপর নির্ভর করছে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গণশিক্ষার অধিকার। তাই আগামীদিনের লড়াই সংগ্রামে বিজয় ছিনিয়ে আনতে ঐতিহাসিক সময়ের দাবিতে আমাদের সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানাচ্ছি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ