প্রয়াত স্ত্রীর জন্য মাইলের পর মাইল সূর্যমুখী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

প্রয়াত স্ত্রীর জন্য মাইলের পর মাইল সূর্যমুখী

বেবেত্তি জ্যাকুইশ (৬৬) ফুল খুব ভালোবাসতেন। তবে সুর্যমুখী ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। সেই প্রিয়তমা স্ত্রীই মরণঘাতী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন গত বছরের নভেম্বরে। হাজারো প্রচেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি মনের মানুষটিকে। তাকে হারিয়ে বড়ই নিসঙ্গ হয়ে পড়েন স্বামী ডন জ্যাকুইশ।

বেবেত্তি জ্যাকুইশ

বেবেত্তি জ্যাকুইশ

নানা কিছুর মধ্যেই তাকে প্রতিনিয়ত খুঁজে ফেরেন তিনি। কিন্তু কোনো কিছুতেই সেই অপূর্ণ স্থান পূরণ হচ্ছিল না। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রিয়তমা স্মরণে তৈরি করবেন সূর্যমুখীর বাগান। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় তা আর সম্ভবপর হয়ে উঠছিল না। কোনো রকমে সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এক প্রতিবেশির জমি ভাড়া নেন ডন। সেই ভাড়া জমিতেই যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন হাইওয়ের ৮৫ এর এক পাশে ৪.৫ মাইলজুড়ে গত জুনে রোপন করেন সূর্যমুখী। ৭৫ দিন পর চলতি মাসে সেগুলোতে ফুল ফুটেছে।

স্ত্রী বেবেত্তির সঙ্গে ডন জ্যাকুইশ

স্ত্রী বেবেত্তির সঙ্গে ডন জ্যাকুইশ

বুধবার এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে পবিত্র প্রেমের প্রতীক হয়ে উঠেছে সেই স্থান। আজ সেই বাগানের সূর্যমুখীই প্রেমের সৌরভ ছড়াচ্ছে হাজারো প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে। প্রতিনিয়ত এখানে ভীড় জমাচ্ছে অগণিত দর্শনার্থী। শুধু সৌরভ নয়, এই সূর্যমুখীর বীজ বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ ক্যান্সার হাসপাতাল উন্নয়নে, গবেষণা ও রোগিদের চিকিৎসায় দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডন জ্যাকুইশ।

স্ত্রী স্মরণে সূর্যমুখী বাগান

স্ত্রী স্মরণে সূর্যমুখী বাগান

ডন জ্যাকুইশ (৬৫) বলেন, বেবেত্তি আমার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে বিরাজ করছে। সে ছিল খুবই মোহনীয়। তার স্মরণে কিছু করার জন্য মন আমার ব্যাকুল হয়ে উঠে। বেবেত্তির মরণের পর, আমি মনে করি; হাইওয়ের ৪.৫ মাইলজুড়ে সূর্যমুখীর এই বাগান তার প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন।

সৎ নাতি নাতনি ও স্ত্রী বেবেত্তির ছবি  সঙ্গে নিয়ে ডন জ্যাকুইশ

সৎ নাতি নাতনি ও স্ত্রী বেবেত্তির ছবি সঙ্গে নিয়ে ডন জ্যাকুইশ

তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর কাছে বেবেত্তি ‘সূর্যমুখী’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

বেবেত্তি ও ডন জ্যাকুইশ দম্পতির মেয়ে জেনি হোয়াইট জানান, তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসতেন। আমার মা বাবার জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন। বাবাও তাই।

এই বিভাগের আরো সংবাদ