নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল চালু হচ্ছে 'অক্টোবরেই'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » চট্টগ্রাম ও বন্দর

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল চালু হচ্ছে ‘অক্টোবরেই’

৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় ৮ বছর পর আগামী ১ অক্টোবর চালু হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। প্রথমে এনসিটির ৪ ও ৫ নম্বর জেটি চালু হবে। আর আইনি জটিলতা কাটলে ২ ও ৩ নম্বর জেটিও চালু করা হবে।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ।

২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ১৫ লাখ টিইউস (প্রতি ২০ বর্গফুট হিসাবে) কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষম এ টার্মিনাল নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে অনিয়ম আর দূর্নীতির অভিযোগের কারণে একাধিকবার দরপত্র আহবান করেও আইনি জটিলতায় টার্মিনাল চালু করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বৈঠক শেষে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ২০০৭ সালে এনসিটি নির্মাণ করা হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা পুরোপুরি চালু করতে পারিনি। আইনি কোনো বাধা না থাকায় আগামী ১ অক্টোবর থেকেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে চালু করা হবে। প্রথমে ৪ ও ৫ নম্বর জেটি চালু করা হবে। ২ ও ৩ নম্বর জেটি নিয়ে আইনি জটিলতা আছে। আশা করছি, ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে জটিলতা কাটবে। তারপর চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী ৪ ও ৫ নম্বর জেটির দায়িত্ব পাওয়া সাইফ পাওয়ারটেক যাবতীয় যন্ত্রপাতি আগামী মাসের মধ্যেই ক্রয় করবে। এছাড়া বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আরও ১০টি গ্যান্ট্রি ক্রেন ক্রয়ের জন্য শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

প্রসঙ্গত, বন্দরের এনসিটিতে ৫টি জেটি রয়েছে। ১ নম্বর জেটিটি বন্দর কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করছে। বাকি ৪টি জেটি যন্ত্রপা্তি কিনে পরিচালনা করবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৪ ও ৫ নম্বর জেটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। বাকি দুটির টেন্ডার হলেও আইনি জটিলতায় বরাদ্দ আটকে আছে।

উল্লেখ্য, এনসিটি নির্মাণ শেষে ২০০৮ সালে প্রথমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরপত্র আহবান করে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগে দরপত্র বাতিল করা হয়।

পরবর্তীতে ২০১২ সালে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় নতুন দরপত্র আহবান করলে তা অনিয়মের অভিযোগ স্থগিতের নির্দেশ দেয় আদালত। তারপর ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল তৃতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বান করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে জুনে অর্থমন্ত্রী লিখিত চিঠির মাধ্যমে  দরপত্র বাতিলের অনুরোধ করা হলে তা বাতিল করা হয়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ জুন এনসিটির ২ ও ৩ নম্বর জেটি এবং ৪ ও ৫ নম্বর জেটিতে কন্টেইনার এবং কন্টেইনারজাত পণ্য উঠানো-নামানোর জন্য দুটি দরপত্র আহবান করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঢাকার কাকরাইলে এইচআর ভবনের কন্টেইনার অ্যান্ড টার্মিনাল সার্ভিসেস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষপতাতিত্বের অভিযোগে দরপত্র স্থগিতের নির্দেশ দেয় আদালত। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আদালত স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ