সিরাজ উদ দৌলা দম্পতির শুনানি পিছিয়েছে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

সিরাজ উদ দৌলা দম্পতির শুনানি পিছিয়েছে

পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার কারসাজি মামলার শুনানি পিছিয়েছে। মামলার বিবাদী সিরাজ উদ দৌলার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুনানি স্থগিত করেছেন বিচারক।

আজ মঙ্গলবার এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

PLFSL

আদালতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিএসইসির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ড. মো. মাহবুব আলম ভূঁইয়া মিলন ও মো. রেজাউল করিম রেজা। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন বাকী মো. মর্তূজা ও মো. ইসমাইল হোসেন দিদার।

মর্তূজা সাংবাদিকদের জানান, আজকের মামলা নং ১৮/১৫ এর দিন ধার্য ছিল। আমরা আসামি পক্ষ থেকে বিজ্ঞ আদালতে দায়েরকৃত ফৌজদারি রিভিশন ৫২২/ ২০১২ এর আদেশ দাখিলের জন্য সময় চেয়েছি। ওই মামলা বিচারপতি সৈয়দ এবিএম মাহমুদুল হক ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। ওই শুনানি শেষে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য আমরা বিজ্ঞ আদালতে সময় আবেদন করেছি। আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ৬ সেপ্টম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

জানা গেছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ (অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর ১৭ (ই)(৫) ধারায় অভিযোগ এনে ২০১১ সালের ২১ আগস্ট মামলাটি করেন বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। আসামিরা হলেন বিনিয়োগকারী সৈয়দ সিরাজ উদ দৌলা, তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া ও তার আত্মীয় হাবিবুর রহমান মোড়ল।

জানা গেছে, সেদিন দুপুরেই ঢাকা মহানগর হাকিম এ জি এম আল মাসুদ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সমন জারি করেন। এরপর ১৭ অক্টোবর আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।

সৈয়দ সিরাজ উদ দৌলা, তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়ার ঠিকানা ৩/১৪, ব্লক-জি, লালমাটিয়া, ঢাকা এবং হাবিবুর রহমানের ঠিকানা এসটিএম ডি-৪, শেরে বাংলানগর, ঢাকা।

আদালতে দাখিল করা এসইসির (বিএসইসি) অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, তারা ২০১০ সালের ৩০ জুন থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে সংঘবদ্ধ ও কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি ঘটিয়েছেন। ওই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কার্যদিবসে সৈয়দ সিরাজ উদ দৌলা পিপলস লিজিংয়ের ২ লাখ ২২ হাজার ৭০০ শেয়ার বিভিন্ন মূল্যে ক্রয় করেন। সেসময়ে শেয়ারটির দর ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। পরবর্তীতে শেয়ারটির অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকায় রূপান্তরের পর ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩০০ শেয়ার বিক্রি করেন তিনি। আবার ৪ আগস্ট থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত পিপলস লিজিংয়ের ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ শেয়ারও ক্রয় করেন তিনি। একই সময়ে ৯ লাখ ১৭ হাজার ২০০ শেয়ার বিক্রিও করেন সিরাজ উদ দৌলা।

অভিযোগনামায় আরও বলা হয়, সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া ১০ আগস্ট থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পিপলস লিজিংয়ের ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ শেয়ার ক্রয় করেন। একই সময়ে তিনি ৩ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ শেয়ার বিক্রি করেন। অপর অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান একই সময়ে পিপলস লিজিংয়ের ৭৫ হাজার শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেন। তারা সবাই পিএফআই সিকিউরিটি হাউজের মাধ্যমে শেয়ার ট্রেডিং করতেন।

উল্লেখ, পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারি তদন্তে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ আবদুল বারী। তদন্ত কমিটি ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বিএসইসির কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে এই তিন জনের বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজির অভিযোগ করা হয়। বিশেষ ট্রাইবুনালের এই মামলা নম্বার হলো- ১৮/১৫।

অর্থসূচক/জিইউ

এই বিভাগের আরো সংবাদ