মা‌নি লন্ডা‌রিং আইনের খসড়া অনু‌মোদন, বেড়েছে দণ্ড
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

মা‌নি লন্ডা‌রিং আইনের খসড়া অনু‌মোদন, বেড়েছে দণ্ড

Cabinet-Meeting-600x297

প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার সভাপতি‌ত্বে ম‌ন্ত্রিসভার বৈঠক। ফাইল ছবি

মানি লন্ডারিং মামলা তদন্তে যৌথ ইউনিট গঠনের বিধান রেখে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন ২০১৫ এর খসড়ার ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেন ভূইঞা এ তথ্য জানান।

মোশাররাফ হোসেন ভূইঞা জানান, প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলা তদন্তে যৌথ তদন্ত ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মানি লন্ডারিং বিষয়টি জটিল হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে যৌথ তদন্ত ইউনিটের প্রয়োজন হবে।  এ তদন্ত ইউনিটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইডি) প্রতিনিধিরা থাকবেন।

সচিব জানান, বিদ্যমান আইনে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো সার্বিকভাবে দুদকের আওতায় ছিল। দুদক থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সংস্থা তদন্ত করত। সংশোধিত আইনে দুনীর্তি ও ঘুষ সংক্রান্ত মামলা তদন্ত করবে দুদক। বাকি মামলা (যেমন, অপহরণ, মুদ্রা জাল করা, দলিল দস্তাবেজ জাল করা,চাঁদাবাজি, প্রতারণা, দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার, চোরাচালানী ও শুল্ক সংক্রান্ত অপরাধ, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থ যোগান ইত্যাদি) পুলিশ, কাস্টম, এনবিআর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদফতরসহ স্ব স্ব সংস্থা তদন্ত করবে।

জেল জরিমানা: মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে জরিমানার পরিমাণ। কোনো ব্যক্তি মানি লন্ডারিং অপরাধ করলে বা মানি লন্ডারিং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করলে তিনি অন্যূন চার বছর এবং অনধিক ১২ (বার) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ (দশ) লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। নতুন আইনে অর্থদণ্ড ১০ লাখ টাকার পরিবর্তে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্বতন্ত্র ইউনিট: সংশোধিত আইনে মানি লন্ডারিং বিষয়াদি পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে স্বতন্ত্র ইউনিট করা হয়েছে। ইউনিটটি বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় থাকলেও কাজ করবে স্বাধীনভাবে। এ ইউনিট প্রধান হিসেবে ৪ বছর মেয়োদে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদমর্যাদার একজনকে নিয়োগ দেবে সরকার। প্রশাসনিকভাবে তিনি গর্ভনরের তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থাসমূহ বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা দ্বারা সংরক্ষিত বা সংগৃহীত তথ্যাদি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে সরবরাহ করবে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা নিতে পারবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ