সিরাজ মাস্টারের মৃত্যুদণ্ড, আকরামের আমৃত্যু দণ্ড
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ
বাগেরহাটের দুই রাজাকারের রায়

সিরাজ মাস্টারের মৃত্যুদণ্ড, আকরামের আমৃত্যু দণ্ড

বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টার ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে সিরাজ মাস্টারের ফাঁসি এবং খান আকরাম হোসেনের আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর দিকে এই রায় ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ২১তম রায় এটি।

এর আগে আজ সকাল ১০টার পর এই মামলার রায় পড়া শুরু করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইবুনাল-১।

 

Sirajul, Akram Bagerhat

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বাগেরহাটের দুই আসামি শেখ সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টার ও খান আকরাম হোসেন।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আদালত গত ২৩ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছিল। এরপর গত সপ্তাহে আদালত রায়ের জন্য ১১ আগস্ট দিন ঠিক করে দেয়।

সিরাজুল হক ও খান আকরাম হোসেনের সঙ্গে আব্দুল লতিফ তালুকদার (৭৫) নামে একাত্তরের আরেক রাজাকারের বিচার শুরু হয়েছিল এই মামলায়। ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই তিন আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। গত ২৭ জুলাই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় আব্দুল লতিফ তালুকদারের মৃত্যু হওয়ায় গত ৫ আগস্ট মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয় আদালত।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটে হত্যা, গণহত্যা ও লুণ্ঠনসহ মোট সাতটি অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধেই রয়েছে পাঁচটি অভিযোগ। অন্য একটি অভিযোগ রয়েছে আকরাম ও লতিফের বিরুদ্ধে। অপর একটি অভিযোগে তিনজনকেই আসামি করা হয়েছে। অর্থাৎ সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে রয়েছে ছয়টি অভিযোগ।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাগেরহাটের কচুয়ার শাঁখারীকাঠি বাজারে ৪২ জনকে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ছয়টি অভিযোগে ২০০৯ সালে সিরাজ মাস্টারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ওই গণহত্যায় নিহত রঘুদত্তকাঠি গ্রামের শহীদ জিতেন্দ্র নাথ দাসের ছেলে নিমাই চন্দ্র দাস কচুয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি পরে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল গত ১০ জুন এই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে কচুয়া থানা পুলিশ পরদিন লতিফ তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ১৯ জুন আকরাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় রাজশাহী থেকে। ২০ জুলাই গ্রেপ্তার হন সিরাজ মাস্টার।

প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা বলছে, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আসামিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করতে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়।

খুলনার আনসার ক্যাম্পে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে তারা অন্যান্য রাজাকার সদস্যদের সঙ্গে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ চালায় বলে তদন্ত সংস্থার অভিযোগ।

২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পর গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনসহ মোট ৩২ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর গত ৬, ৭ ও ২১ এপ্রিল আসামিদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন পাঁচজন। এরা হলেন- মো. আমজাদ শেখ, সরদার আব্দুল মান্নান, আব্দুর রশিদ মল্লিক, ইউসুফ আলী দিহিদার ও মো. ফেরদৌস খান।

গত ১৫ জুন প্রসিকিউটর সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। আসামি লতিফ তালুকদার অসুস্থ হয়ে পড়লে যুক্তিতর্ক স্থগিত করে আদালত। পরে ১৭ জুন সুমন যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদার ও আকরাম হোসেন খানের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সারওয়ার হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন ১৮ জুন। ২১ জুন যুক্তি উপস্থাপন করেন সিরাজ মাস্টারের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান। এই আসামি আর্থিক অসঙ্গতির কথা বলায় আদালত তার মামলা লড়তে আইনজীবী নিয়োগ দেয়। দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ