এসিড আক্রান্তদের ফ্রি চিকিৎসা পশ্চিমবঙ্গেও
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বিবিধ

এসিড আক্রান্তদের ফ্রি চিকিৎসা পশ্চিমবঙ্গেও

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি হাসপাতালে এসিড আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা মিললেও মিলত না বেসরকারি হাসপাতালে। তবে এখন থেকে সর্বত্রই মিলবে তাদের ফ্রি চিকিৎসা। গত শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, সরকারি, বেসরকারিসহ সকল  চিকিৎসাকেন্দ্রকেই এসিড আক্রান্তদের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা বিনামূল্যে করতে হবে।

প্রতীকী।

প্রতীকী।

 

গতকাল রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে নির্দেশনা জারির মাত্র দু’দিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির বেসরকারি হাসপাতালগুলির প্রতি একই নির্দেশ জারি করেছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার৷ দেশের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে সেই পথেই হাঁটল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৷ সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিত্সার কথা তিনি বহু আগেই ঘোষণা করেছিলেন৷ এ বার বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বাধ্যতামূলক হল এ রাজ্যে৷

গত শনিবার স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী বলেন, ‘শুক্রবারই বিষয়টি বাধ্যতামূলক জানিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির উপর তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উপ-স্বাস্থ্য অধিকর্তা (প্রশাসন) এবং সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে৷’

তিনি জানান, নির্দেশে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, অ্যাসিড হামলায় জখম রোগীর ক্ষেত্রে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কী হবে৷ কোনও অজুহাতেই অ্যাসিড আক্রান্তকে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না৷ এমনকি, প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক সার্জারির দায়িত্বও নিতে হবে ওই প্রতিষ্ঠানকে৷ নির্দেশ লঙ্ঘিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে৷

স্বাস্থ্য ভবন সূত্র জানায়, ২০০৬-এ সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া ‘লক্ষ্মী বনাম ভারত সরকার রিট পিটিশন’-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩-তে শীর্ষ আদালত রাষ্ট্রকে অ্যাসিড আক্রান্তের বিনামূল্যে যথাযথ চিকিত্সার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেয় ৷ কিন্ত্ত এই রায়ের পরও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করায় তারা এই নির্দেশ দিতে বাধ্য হলেন। পাঁচ দফা নিয়মাবলিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আহত ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানেরই এবং ভর্তি থাকাকালীন চিকিত্সা, ওষুধ, খাবারদাবার, বিছানা-সহ আহতের যাবতীয় ব্যয়ভার তাদেরই বহন করতে হবে৷

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, এতদিন পরে এমন নির্দেশনার কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যকর্তারা বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরও বাস্তবে দেখা গিয়েছে, অ্যাসিডে দগ্ধ শরীর নিয়ে নিকটবর্তী বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চিকিত্সা মেলেনি, এমন নজির ভূরি ভূরি৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় যা আহতদের পরিজনদের সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যায়। তবে এই নির্দেশনা জারির পর এখন থেকে যদি কেউ নিয়ম না-মানে, তা হলে সিআরপিসি-র ৩৫৭-সি ধারায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের এই নির্দেশে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ