প্রশ্নপত্র ফাঁসে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন: টিআইবি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

প্রশ্নপত্র ফাঁসে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন: টিআইবি

প্রশ্নপত্র ফাঁসে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থের লেনদেন হয়। আর এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কোচিং সেন্টার, বেসরকারি কিছু অংশীজনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ জড়িত।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যশোর থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ছবি: ডিএমপির ওয়েবসাইট থেকে নে্ওয়া

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ আগস্ট বুধবার যশোর থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ছবি: ডিএমপির ওয়েবসাইট থেকে নে্ওয়া

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের উপ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নীহার রঞ্জন রায় ও রুমানা শারমিন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত চার বছরে এসএসসি, এইচএসসি, জেএসসি, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৬৩টি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে।

এতে আরও জানানো হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সরকারি মুদ্রণালয় বিজি প্রেস, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পরীক্ষা কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকদের একাংশ। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত এসব প্রতিষ্ঠানের একাংশের সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্ভব নয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ফাঁস করা প্রশ্নপত্র ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত বেসরকারি পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতা-কর্মী, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের একটি অংশ, কোচিং সেন্টার, গাইড বই ব্যবসায়ী, ফটোকপির দোকান, শিক্ষার্থী ও তাদের বন্ধুবান্ধব, অভিভাবকের একাংশ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে এককভাবে ২০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। আর গোষ্ঠীগতভাবে নেওয়া হয় ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা অস্বীকার করাসহ কিছু কারণে এই প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হচ্ছে না বলে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে টিআইবি সাতটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পরীক্ষামূলকভাবে এখন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণের কাজটি ডিজিটালভাবে করা, আইনে শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে যথাযথ প্রয়োগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর তদারকি বাড়ানো।

এই বিভাগের আরো সংবাদ