গ্যাটকো মামলায় খালেদাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » সর্বশেষ

গ্যাটকো মামলায় খালেদাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় করা গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দুই আবেদন খারিজ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাই কোর্ট।

বকশিবাজারের বিশেষ আদালতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বকশিবাজারের বিশেষ আদালতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ রায়ের ফলে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার বিচার চলতে আর বাঁধা থাকলো না।বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

এছাড়াও রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্টে আত্মসমর্পণের নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট।
২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেঁজগাও থানায় এই মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী।

ওই মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। জরুরি ক্ষমতা আইনে ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০৮ সালের ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এই মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।

মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো।

এর তিনদিন পর খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেয় হাইকোর্ট। মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন ‘বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। তবে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়।

দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে আবারও মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয় দুদক। গত ১৯ এপ্রিল ওই রুলের শুনানি শুরু হয়।

এই মামলার অন্যতম আসামিরা হলেন- বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম. শামসুল ইসলাম, এম.কে. আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী।

খালেদার আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, গ্যাটকো মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতির ‘সুনির্দিষ্ট’ অভিযোগ নেই। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোনো দরপত্র অনুমোদনের জন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তার বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা ‘চলতে পারে না’।

রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া ওই চুক্তি থেকে কোনোভাবে লাভবান হয়েছেন এমন অভিযোগও মামলায় নেই। এক্ষেত্রে তিনি রুলস অব বিজনেস বা রুলস অব প্রসিডিউর ভাঙেননি।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানিতে বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের উপাদান রয়েছে। ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে অনুমোদনের কথা বলে পার পাওয়া যায় না। ফৌজদারি মামলা নিয়ে এই রিট আবেদন চলতে পারে না। কারণ অপরাধ সংগঠিত হয়েছে কিনা, তা ঘটনাগত বির্তকের বিষয়, এ নিয়ে রিট চলে না। আবেদনকারী (খালেদা জিয়া) দোষী না নির্দোষ তা বিচারিক আদালতের দেখার বিষয়।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার বিরুদ্ধে গ্যাটকোসহ তিনটি মামলা হয়। আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে যাওয়ার দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি মামলাগুলো সচল করার উদ্যোগ নেয় দুদক। এর মধ্যে নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে করা খালেদা জিয়ার আবেদন ইতোমধ্যে খারিজ হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ