ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় ২ বছর জেল সারোয়ারের
শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়

ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় ২ বছর জেল সারোয়ারের

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছয়টি ওয়েব পোর্টালে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কেনা-বেচার আগাম মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী মাহাবুব সারোয়ারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংগৃহীত

সংগৃহীত

বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (বিশেষ জেলা জজ) হুমায়ুন কবীর বাদী পক্ষ (বিএসইসি) ও বিবাদী পক্ষের (মাহাবুব সারোয়ার) সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং যুক্তিতর্ক শুনে সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ রায় দেন। এটাই পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচারক হুমায়ুন কবির আসামি ও বাদী পক্ষের উপস্থিতিতে রায় পড়ে শোনান। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে রায় পড়ে শুনিয়ে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন বিচারক হুমায়ুন কবীর।

এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য সারোয়ারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল, তা প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামি মাহাবুব সারোয়ার শেয়ারবাজারের বিভিন্ন কোম্পানির আগাম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ফেসবুকসহ অন্যান্য ওয়েব পোর্টালে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কেনা-বেচার আগাম মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ যে সাক্ষ্য দিয়েছে তা বিশ্বাসযোগ্য। এখানে অবিশ্বাসের কিছুই নেই।

আর বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি মাহাবুব সারোয়ারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশে যে তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল তা যথাপোযুক্ত। পাশাপাশি পুলিশের তদন্তেও আসামি দোষী প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা-বেচার আগাম তথ্য দিয়ে সহায়তা করার কাজ বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক বা পোর্টফোলিও ম্যানেজার করে থাকে। কিন্তু আসামি মাহাবুব সারোয়ার রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা-বেচার আগাম তথ্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওয়েব পোর্টালে প্রকাশ করেছেন। যা সিকিউরিটিজ আইন পরিপন্থী।

আসামি মাহাবুব সারোয়ার সন্দেহাতিতভাবে দোষী প্রমাণিত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এর ১৮ ধারা ও সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী আসামিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ, ২০০৭ সালের মার্চ থেকে ২০১০ সালের মার্চ পর্যন্ত মাহাবুব সারোয়ার বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকে শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মিথ্যা ও প্রতারণামূলক তথ্য প্রচার করেন। ওই পোর্টালগুলোর নাম হল— সৈকতস ব্লগ, মাহাবুব সারোয়ার, সৈকত সৈকত, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিএসই-এক্সুসিভ ও ফেসবুক। এ পোর্টালগুলোতে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল তা পুরোপুরি বিভ্রান্তকর ছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এ জন্য ওই সময় অসংখ্য বিনিয়োগকারী প্রতারিত হয়েছিলেন। বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে ফায়দা হাসিলের জন্য তিনি এ ধরনের কাজ করেছিলেন বলে মনে করে বিএসইসি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালেই বিএসইসি মাহাবুব সারোয়ারকে র্যাজবের সহায়তায় গুলশানের একটি বাসা থেকে কম্পিউটারসহ আটক করে গুলশান থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় গুলশান থানায়। পরবর্তী সময়ে ওই মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

ওই সময় মাহাবুব সারোয়ারের এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন— বর্তমানে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম, পরিচালক (আইন) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, পরিচালক রাজিব আহমেদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) এটিএম খায়রুজ্জামান।

গত ২১ জুন পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন বিচারক হুমায়ুন কবীর। প্রথম দিনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষে ২০১০ সালে দায়ের করা মামলার (পুরনো মামলা নম্বর ৭২০৭/২০১০, নতুন মামলা নম্বর ১৭/২০১৫) বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ মামলায় বাদী পক্ষে সাক্ষ্য দেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম, পরিচালক (আইন) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, পরিচালক রাজিব আহমেদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) এটিএম খায়রুজ্জামান, নওগাঁ পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান (২০১০ সালে তিনি গুলশান থানার ডিউটি অফিসার ছিলেন) ও গোয়েন্দা সংস্থার (এসবি) পুলিশ পরিদর্শক ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় (২০১০ সালে তিনি গুলশান থানা থেকে এ মামলার তদন্ত করেন)।

এই বিভাগের আরো সংবাদ