মুদ্রানীতি: বিনিয়োগ ব্যবস্থায় সর্বোত্তম সংস্থান চায় এফবিসিসিআই
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

মুদ্রানীতি: বিনিয়োগ ব্যবস্থায় সর্বোত্তম সংস্থান চায় এফবিসিসিআই

লোগো

লোগো

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ ব্যবস্থায় সর্বোত্তম সংস্থানের দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ, গত ৩০ জুলাই বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ২০১৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৫) মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে যথাযথ মুদ্রা সরবরাহ এবং সে সাথে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হচ্ছে মূদ্রানীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার উদ্দেশে ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে জিডিপি’র ৩৪ শতাংশ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত মুদ্রা  সরবরাহ, বিনিয়োগবান্ধব সুদের হার ও ব্যাংক চার্জ কার্যকর করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী খাত (এসএমই), মহিলা উদ্যোক্তাসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহ কর্তৃক খাতভিত্তিক ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা এবং সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে এনে ঋণ গ্রহনের সুযোগ দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং ঋণ বিতরণে গুণগত মানের দিকে বেশি নজর দেওয়ার পাশাপাশি মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। রপ্তানি নীতিমালায় ঘোষিত আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর বাস্তবায়নের যথাযথ সংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। পিপিপি প্রকল্পসমূহে বিদেশি-দেশি মুদ্রার যথাযথ সরবরাহের সংস্থান এবং লাগসই বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিযোগী বেশির ভাগ দেশের ঋণের সুদের হার বাংলাদেশের চেয়ে কম উল্লেখ করে এফবিসিসিআই জানায়, প্রতিযোগী দেশে ঋণের সুদের হার কম থাকায় তারা কম সুদে ঋণ নিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছেন। সুদের হার বেশি হলে বিনিয়োগ কম হবে। ফলে জনবহুল এ দেশে কাঙ্খিত কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন হবে না। প্রবৃদ্ধির ধারাও ব্যাহত হবে। বর্তমানে উচ্চ সুদের পাশাপাশি ব্যাংকসমূহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমন্বয়হীনভাবে ব্যাংক চার্জ আদায় করছে যা ব্যবসায়ের খরচকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগের স্বার্থে সকল খাতের ব্যাংক ঋণের সুদের হার কস্ট অব ফান্ড যোগ ২.৫ শতাংশ-এ নামিয়ে আনা প্রয়োজন বলে এফবিসিসিআই মনে করে।

বছরের শুরুর দিকে নেতিবাচক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সে সাথে অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, তদুপরী উচ্চ সুদের হার ও সামঞ্জস্যহীন ব্যাংক চার্জের কারণে কাঙ্খিত হারে বিনিয়োগ হচ্ছে না এবং সে সাথে বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবাহ হচ্ছে না। যার কারণে ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্যের সৃষ্টি হচ্ছে। এ অর্থকে বিনিয়োগে নিয়ে আসতে না পারলে অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যেতে পারে যা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ