মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতবান্ধব নয়: ডিসিসিআই
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতবান্ধব নয়: ডিসিসিআই

ডিসিসিআইয়ের লোগো। সংগৃহীত

ডিসিসিআইয়ের লোগো। সংগৃহীত

২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ঘোষিত মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতবান্ধব নয় বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (ডিসিসিআই)।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায় সংগঠনটি।

গত ৩০ জুলাই বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ২০১৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৫) মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে লক্ষ্যমাত্রা কমালেও প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন’১৫) চেয়ে বাড়বে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২ শতাংশে এ নামিয়ে আনা এবং ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। তবে ঘোষিত মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে তেমন আকৃষ্ট করছে না। যেখানে দেশের বেসরকারি খাতে কমে যাওয়া বৈদেশিক বিনিয়োগ আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদের হার  ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নয়- উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি খাতে ১৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টি অর্থনীতির অন্যান্য অনুষঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও ঋণের সুদের উচ্চহার, ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের কারণে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে।

মুদ্রানীতির সমালোচনা করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে আমদানির হার ১২ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমানের ক্রমাগত উঠানামার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে। এক্ষত্রে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রস্তাবিত মুদ্রানীতিতে ব্যাংকিং খাতের শ্রেণীভুক্ত ও খেলাপি ঋণ আদায় এবং তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা নেই।

বিদ্যমান খেলাপি ঋণের বিষয়টি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য  উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে ডিসিসিআই আশা প্রকাশ করে, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কামানো হলে, দেশিয় ও বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। তাছাড়া ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন সম্ভাবনা, দীর্ঘমেয়াদী অভিক্ষেপ ও উৎপাদনশীল খাতে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়সমূহ প্রকৃত অর্থে মুদ্রানীতিতে প্রতিফলিত হয়নি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ