নেতাজির নথি ইঁদুরের পেটে!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

নেতাজির নথি ইঁদুরের পেটে!

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসক জোসেফ স্ট্যালিন ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম নেতা সুভাস চন্দ্র বসুকে খুন করেন বলে দাবি করেছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী। নেতাজির মৃত্যুর প্রায় ৭০ বছর পর গত জানুয়ারিতে এই দাবি করেন তিনি।Subhas Chandra Bose

গত ২৪ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজেপির এই নেতা বলেছিলেন, নেতাজি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি। তাকে হত্যা করা হয়েছিল। আর তাকে খুনের বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন জওহরলাল নেহরু।

এরপর গত এপ্রিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, নেতাজির মৃত্যুর পর ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবার প্রত্যেক সদস্য। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নির্দেশে এই নজরদারি চালানো হত। কলকাতার ১ উডবার্ন পার্ক এবং ৩৮/২ এলগিন রোডে নেতাজির ২টি বাড়িতে টানা ২০ বছর চলে এই নজরদারি।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ১৩ এপ্রিল জার্মানির বার্লিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র সূর্যকুমার বসু। সে সময়ে নেতাজির মৃত্যুর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন তিনি।

Netaji & Nehru

কোনো এক অনুষ্ঠানে একইসঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং জওহরলাল নেহরু।

এবার নেতাজির মৃত্যু নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হতে যাচ্ছে ভারতে। গতকাল বৃহস্পতিাবর নয়াদিল্লির তথ্য অধিকার সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে দেশের প্রথম মুখ্য তথ্য কমিশনার ওয়াজাহাত হবিবুল্লাহ বলেছেন, সুভাষ চন্দ্র বসুর রহস্যজনক অন্তর্ধান সংক্রান্ত নথিপত্র সরকারের কাছে নেই। কারণ সেগুলি হয় হারিয়ে গেছে, নতুবা ইঁদুরে খেয়েছে।

সরকারি দলিল দস্তাবেজ সংরক্ষণের বেহাল অবস্থার উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেতাজি সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ না করার এটাই প্রধান কারণ।

হবিবুল্লাহ বলেন, নেতাজির কয়েকজন আত্মীয় সম্প্রতি জার্মানিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নেতাজি সংক্রান্ত নথি প্রকাশের আর্জি জানান। কিন্তু ওই নথিপত্রগুলি প্রকাশ না করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন যুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু ঘটনা হল, সে সব নথিপত্র এখন আর নেই।

এই বিভাগের আরো সংবাদ