মধ্যরাতে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় কোমেন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

মধ্যরাতে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় কোমেন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় কোমেন আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সন্দ্বীপের কাছ দিয়ে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। এজন্য উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

cyclone_saint_martin_fcousbangla_nocredit

ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্লাবিত হয়েছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

আজ সন্ধ্যায় অধিদপ্তরের এক বিশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

যদিও আজই দুপুরে অধিদপ্তরের আরেক বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছিল, সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় কোমেন।

এদিকে, আজ সন্ধ্যায় বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঘুর্ণিঝড়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য উপকূলীয় জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল থেকে প্রায় বিশ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় কোমেন সামান্য উত্তর দিকে সরে গিয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ সন্ধ্যা ৬টায় (৩০ জুলাই, ২০১৫ ইং তারিখ) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৫ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার পূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে অবস্থান করছিল (২২.২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১.৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)।

cyclone_radar

রাডারে ধরা পড়া চিত্র (আবহাওয়া বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া চিত্র)

ঘূর্ণিঝড় কোমেন উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আজ (৩১ জুলাই, ২০১৫ ইং তারিখ) মধ্যরাতে সন্দ্বীপের কাছ দিয়ে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। উপকূল অতিক্রম করার পর এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

বুলেটিনে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার; যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

বুলেটিনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও ভোলা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

বুলেটিনে মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৫ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাবাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ