লক্ষ্যমাত্রা কমলেও ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ার আশাবাদ বাংলাদেশ ব্যাংকের
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

লক্ষ্যমাত্রা কমলেও ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ার আশাবাদ বাংলাদেশ ব্যাংকের

Bangladesh Bank

ছবি সংগৃহীত

বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ২০১৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৫) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে লক্ষ্যমাত্রা কমালেও প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন’১৫) চেয়ে বাড়বে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর মিলেনায়তনে এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আতিউর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, ড. নাজনীন সুলতানা, আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাছান, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পালসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

আতিউর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি আগের মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবারের মুদ্রানীত প্রণয়ন করতে। গত বছর বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ থাকলেও, বাস্তবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতই দেশীয় ব্যাংকের বাইরে বৈদেশিক সূত্র থেকে পর্যাপ্ত ঋণ এনেছে। এ ঋণের ব্যবহারও হয়েছে।

আতিউর বলেন, ব্যাপক মুদ্রার প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের ১৩ দশমিক ১ শতাংশের বিপরীতে ২০১৬ অর্থবছরের জন্য ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রাক্কলিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ মুদ্রা যোগানে আগের অর্থবছরের ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ২০১৬ অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ। দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার ফলে ব্যাংকিং খাতের নীট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের চেয়ে মন্থর হয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াবে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের বর্তমান বৃদ্ধির হারেও শিথিলতা আসবে বলে জানান তিনি। বৈদেশিক লেনদেনের চলতি খাতের ঘাটতিও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ জোরদার হওয়ার কারণে বৃদ্ধি পাবে, তবে জিডিপির দুই শতাংশের মতো মাত্রার প্রাক্কলিত ঘাটতি কোনো উদ্বেগের কারণ হবে না।

গভর্নর বলেন, দেশজ উৎপাদনে ৭ শতাংশ প্রকৃত প্রবৃদ্ধি এবং ৬ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির মাত্রা ধরে অভ্যন্তরীণ ঋণ যোগানের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিগত অর্থবছরের প্রাক্কলিত ১০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ২০১৬ অর্থবছরের জন্য ১৬ দশমিক ৩ শতাংশে।

আতিউর রহমান বলেন, নতুন ২০১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধিবান্ধব অর্থায়ন সচল থাকার পাশাপাশি নতুন দু’টি অর্থায়ন সূত্র যোগ হবে। প্রথমটি হলো অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানি উভয় বাজারের জন্য উৎপাদনমুখী প্রকল্পগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল আনা হবে। আর দ্বিতীয়টি হলো রপ্তানিমুখী বস্ত্র, পোশাক ও চামড়া শিল্পে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া অবলম্বনের অর্থায়নের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার পুন:অর্থায়ন সহায়তা দেওয়া হবে। আইপিপিএফ প্রকল্পটিও ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার পর ২০১৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে বর্ধিত মাত্রায় নবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, উচ্চতর প্রবৃদ্ধির হার অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ যোগানের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা প্রয়োজন বলে অনেকে ধারণা করে। অর্থনীতির প্রকৃত খাতে বিরাজমান ভৌত অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা এবং অন্যান্য সুবিদিত প্রতিবন্ধকতা নিরসন না করে অপরিমিত তারল্যস্ফীতি আনা মোটেই প্রবৃদ্ধিবান্ধব হবে না। শুধু অনুৎপাদনশীল বেশি ঝুঁকিনির্ভর কর্মকাণ্ড উৎসাহিত করে মূল্যস্ফীতি। একই  সঙ্গে সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধির ইন্ধন যোগাবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিগত কয়েক বছর ধরে মুদ্রানীতিতে সংযত ও সতর্ক ভঙ্গি বজায় রেখে ঋণ যোগান প্রবৃদ্ধির পর্যাপ্ততার দিকে নজর দিচ্ছে।

গর্ভনর বলেন, পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত স্ফীতি এড়িয়ে চলেছি। যার ফলে ভোক্তা মূল্যস্ফীতির পরিমিতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখায় টেকসই অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়েছে। প্রবৃদ্ধির উচ্চতর ধারা অর্জনের উচ্চ গুরুত্বের বিষয়ে কোনো মহলের সাথেই বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বিমত নেই বলে জানান গর্ভনর।

অর্থসূচক/জিইউ

এই বিভাগের আরো সংবাদ