রায় শোনার পরও ‘হাসি-খুশি’ সাকা চৌধুরী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অপরাধ ও আইন

রায় শোনার পরও ‘হাসি-খুশি’ সাকা চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখার সংবাদ শোনার পরও ‘হাসি-খুশি’ ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

আজ বুধবার দুপুরের দিকে টেলিফোনে এই তথ্য জানান কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর জেলার মো. ফরিদুর রহমান রেজা।

Salauddin Quader Chowdhury

পুলিশের প্রিজন ভ্যানের সামনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, আজ বুধবার সকাল ৯টায় রায় ঘোষণার পর সালাউদ্দিন কাদেরকে রায়ের কথা জানাতে তার সেলে গিয়েছি। এর আগে রেডিওর মাধ্যমে রায়ের সংবাদ জানতে পেরেছেন তিনি।

কাশিরপুর কারাগারের জেলার বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় শোনার পরও ‘হাসি-খুশি’ ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তিনি আইনের সর্বোচ্চ লড়াই লড়বেন; রিভিউ আবেদন করবেন। তিনি আশাবাদী, রিভিউয়ে ন্যায়বিচার পাবেন।

“সাকা চৌধুরী আমাদের বলেছেন, আমি দেশের জন্য, জনগণের জন্য রাজনীতি করেছি। আমিতো ফেলনা লোক নই। আজ হয়তো আমার কিছু কথার কারণে অনেকেই ক্ষুব্ধ। আজ আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”

রায় ঘোষণার পর নিজেকে ‘নির্দোষ’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার’ বলে দাবি করেছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তাকে ‘মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে’ বলেও দাবি করেছেন তিনি।

জেলার ফরিদুর রেজা বলেন, এই রায়কে কেন্দ্র করে আমরা আগে থেকেই সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ বন্দি অবস্থায় আছেন।

কারাবিধি অনুযায়ী, কারাগারে বন্দি আসামিরা তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক ব্যান্ডের রেডিও সঙ্গে রাখতে পারেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ১৭টির পক্ষে সাক্ষী হাজির করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এগুলোর মধ্যে মোট নয়টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে। বাকি আটটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ যে ছয়টি অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করেননি সেগুলো থেকেও সাকা চৌধুরীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে চারটিতে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাকা চৌধুরীকে। তিনটি অভিযোগের প্রত্যেকটিতে ২০ বছর এবং আরো দু’টি অভিযোগের প্রতিটিতে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে তাকে। সব মিলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি মোট ৭০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ