কৃষিতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

কৃষিতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত কিছু ক্ষেত্র ও খাত চিহ্নিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষিখাতে মোট ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৮৪৫ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

পাকা ধান কেটে বাড়ি ফিরছেন দুই জন কৃষক। ছবি সংগৃহীত

পাকা ধান কেটে বাড়ি ফিরছেন দুই জন কৃষক। ছবি সংগৃহীত

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গভর্নর ড. আতিউর রহমান নতুন নীতিমালা ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ঘোষণা দেন।

উল্লেখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৫ হাজার ৯৭৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে; যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৩ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন,  যে সব ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে না তাদেরকে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলভাবে জমা রাখা হবে। ক্যামেলস রেটিং এবং নতুন শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউস খোলার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে।

গভর্নর আর্থিক সেবাভূক্তি কার্যক্রম বাড়াতে কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সূর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক শুভাংকর সাহা এবং কৃষিঋণ ও আর্থিক সেবাভূক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত অর্থবছরের (২০১৪-১৫) কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচির মূল দিকগুলো ঠিক রেখে কয়েকটি নতুন বিষয় এ নীতিমালায় সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি ও পল্লী ঋণের আওতা বৃদ্ধি, পল্লী এলাকায় ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণ, কৃষকদের ব্যাংকমুখী করা অর্থ্যাৎ আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তিকরণ, আমদানি বিকল্প ফসল চাষে বাড়তি উৎসাহ প্রদান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান, নেপিয়ার ঘাস, ক্যাপসিকাম চাষ, আম ও লিচু চাষে ঋণ প্রদানে নির্দেশনা, উদ্ভাবিত নতুন ফসল ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের ন্যূনতম ২ শতাংশ কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করতে হবে। নতুন ৯টি বেসরকারি ব্যাংকের জন্য এ হার ৫ শতাংশ। যে সব ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে না তাদেরকে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলভাবে জমা করতে হবে। ব্যাংক জমার ওপর কোনো সুদ পাবে না।

প্রতিটি ব্যাংক শাখায় কৃষি ঋণের সুদহার, কৃষি ঋণের খাত, আমদানি বিকল্প ফসল চাষের জন্য রেয়াতি সুদহার এবং কৃষি ঋণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর সম্বলিত ব্যনার-ফেস্টুন দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনকে জনপ্রিয় করতে এ খাতে ব্যাংকগুলো ঋণ নিয়মাচার অনুযায়ী ঋণ প্রদান করতে হবে।

সূত্র: বাসস

এই বিভাগের আরো সংবাদ