রাজন হত্যা: জালালাবাদ থানার ওসি আলমগীর বরখাস্ত
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

রাজন হত্যা: জালালাবাদ থানার ওসি আলমগীর বরখাস্ত

OC Alamgirসিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন (১৪) হত্যাকাণ্ডের পর দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে মহানগরের জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তদন্তে দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ মেলায় পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ নিশ্চিত করেন

তিনি জানান, রাজন হত্যাকাণ্ডের পর দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে ২৪ জুলাই ওসি (তদন্ত) আলমগীরকে জালালাবাদ থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই অভিযোগে এসআই আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসেনকে সেদিন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। শিশু সামিউলের বাবা শেখ আজিজুর রহমান পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৪২৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে কমিটির সদস্যরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পান এবং ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেন। কিন্তু একজন ওসি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার এখতিয়ার মহানগর পুলিশ কমিশনারের না থাকায় আলমগীরকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে, তদন্ত কমিটির সুপারিশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠান মহানগর কমিশনার। রোববার সেই সুপারিশ বিবেচনা হেডকোয়ার্টার থেকে আলমগীরেক সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সিলেট শহরতলীর কুমারগাঁওয়ে খুঁটিতে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন করে খুন করা হয় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেয়ালি গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে ১৩ বছর বয়সী শিশু রাজনকে।

গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করে কয়েকজন। ওই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে তারা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে সারা দেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

রাজন হত্যাকাণ্ডের পর আসামী মুহিতকে বাঁচাতে এবং মুহিতের সৌদিপ্রবাসী ভাই কামরুলকে পালিয়ে যেতে সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলাম সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন রাজনের বাবা। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও রাজনের বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারেরও অভিযোগ ওঠে পুলিশে দুই সদস্যের বিরুদ্ধে।

রাজন খুনের মামলার চার আসামির মধ্যে মুহিতসহ অন্যদের জনতাই ধরে ‍পুলিশে দেয়। সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়া কামরুলকেও প্রবাসীদের সক্রিয়তায় দূতাবাস কর্মকর্তারা আটক করে।

এই মামলায় এই পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে সাতজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ