ছিটমহল জরিপে বাদ পড়াদের নিয়ে উদ্বেগ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বিবিধ

ছিটমহল জরিপে বাদ পড়াদের নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশ ভারত ছিটমহলগুলো আনুষ্ঠানিক বিনিময়ের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকী থাকলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে জরিপে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নিয়ে।

বাংলাদেশের মধ্যে থাকা একটি ছিটমহল

বাংলাদেশের মধ্যে থাকা একটি ছিটমহল

এ সংকটের সমাধান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ঢাকায় আজ থেকে শুরু হওয়া দু’দেশের কর্মকর্তাদের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায়।

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালে একটি যৌথ জরিপ হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে।

সেই জরিপে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারাই কেবল কোন দেশে থাকবে, সেই মতামত নেওয়া হয়েছে গত ৬ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত।

আগের যারা জরিপে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি, এবার তাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।

আর এ কারণেই জরিপে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নিয়ে আইনগত সমস্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে।

bd_enclave_6সে কারণেই আজ দুদেশের কর্মকর্তাদের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আজ দিনভর আলোচনা হয়েছে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নিয়েই। যেমনটি বলছিলেন বৈঠকে অংশ নেয়া লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছেন তারা ২০১১ এর জরিপ থেকে বাদ পড়েছেন। আবার কেউ কেউ অপশন প্রত্যাহার বা পরিবর্তনের (ভারতে যাওয়া বা বাংলাদেশে থেকে যাওয়া) কথা বলছেন। এখন প্রত্যেক ব্যক্তিকে ধরে ধরে আলোচনা করতে হচ্ছে। না হলে আমরা যদি এগিয়ে যাই তাহলে লিগ্যাল সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া সভায় ছিটমহল বিনিময় ও যারা ভারতে যেতে চান তাদের পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

দুদেশের যৌথ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের মধ্যে ১১১টি ছিটমহল থেকে মোট ৯৭৯জন ভারতের নাগরিক হতে চান।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পহেলা আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতে চলে যেতে পারবেন।

আর তাই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে এসব ব্যক্তিদের ভারতে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে বলে জানান হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, “খুঁটিনাটি সব বিষয় আলোচনায় আসছে। লোকজন কিভাবে যাবে, কখন যাবে, পুঁজোর আগে না পরে, জমি বিক্রি নিয়ে কি হবে,আমরা কতটুকু নিরাপত্তা দেব এমন সব বিষয়।”

তিনি বলেন, তাদের পর্যায়ে এগুলো সমাধান না হলে প্রয়োজনে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এগুলোর সমাধান আসবে।

ছিটমহলের অধিবাসীদের কয়েকজন

ছিটমহলের অধিবাসীদের কয়েকজন

কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের আশা ছিটমহল বিনিময়কে ঘিরে যেসব সংকট দেখা দিয়েছে সেগুলো নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ কালও আলোচনা চালিয়ে যাবে।

প্রয়োজনে উভয় দেশের সরকারের সহযোগিতা নিয়ে রাজনৈতিকভাবেই সেগুলোর সমাধান করে ৩১ জুলাই মধ্যরাতে নির্ধারিত সময়ে ছিটমহলগুলো বিনিময় সম্পন্ন করা যাবে।

উভয় দেশের সরকারের হিসেব অনুযায়ী ভারতের মধ্যে বাংলাদেশের ৫১ টি এবং বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১ টি ছিটমহল রয়েছে।

এর মধ্যে জরিপে বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ছিটমহলে সাড়ে ৪১ হাজার এবং ভারতের মধ্যে থাকা ছিটমহলে ১৪ হাজার মানুষের বসবাসের তথ্য রয়েছে।

তবে ২০১১ সালের জরিপে সার্বিক ভাবে কত জন বাদ পড়েছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

যখন যে আবেদন করছেন তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখন সমাধানের চেষ্টা করছেন দুদেশের কর্মকর্তারা।

সূত্র: বিবিসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ