রায়ের অপেক্ষায় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় ফোরকান মল্লিক
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অপরাধ ও আইন

রায়ের অপেক্ষায় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় ফোরকান মল্লিক

পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় আজ বৃহস্পতিবার। সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টার পর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

Forkan Mallik

২০১৪ সালের ২৫ জুন গ্রেপ্তারের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক। ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) এস.এম. ইমানুল জানান, ফোরকান মল্লিককে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। ৮টা ৫৫ মিনেটে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছানোর পর তাকে হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গত ১৪ জুন দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের জন্য এই মামলাটি অপেক্ষমান (সিএভি) রাখেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর এটি হবে ২০তম রায়। ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফোরকান মল্লিকের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ রয়েছে তখনকার এই মুসলিম লীগ কর্মীর বিরুদ্ধে।

একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের দায়ে ২০০৯ সালে ২১ জুলাই ফোরকানের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় আবদুল হামিদ নামে এক ব্যক্তি মামলা করেন। এরপর পটুয়াখালীর গোয়েন্দা পুলিশ ২০১৪ সালের ২৫ জুন ফোরকানকে বরিশালের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেপ্তার করে।

৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফোরকান মল্লিককে করাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করেন প্রসিকিউশনের তদন্ত র্কমর্কতা সত্যরঞ্জণ রায়।

২ ডিসেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আটজনকে হত্যা ও গণহত্যা, ৪ জনকে ধর্ষণ, ৩ জনকে ধর্মান্তরে বাধ্য করা, ১৩টি পরিবারকে দেশান্তরে বাধ্য করা, ৬৪টি বসতবাড়ি ও দোকানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মোট পাঁচটি অভিযোগ অভিযুক্ত করা হয় তাকে।

প্রসিকিউশনের প্রারম্ভিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। প্রসিকিউশনের পক্ষে এ মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে ফোরকান মল্লিকের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন চারজন।

পরে আসামিপক্ষে আব্দুস সালাম খান ও প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বিচারিক কার্যক্রম শেষে রোববার মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ