হিসাবের খাতা নিয়ে ব্যস্ত কেরানীগঞ্জের পাইকাররা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পণ্যবাজার

হিসাবের খাতা নিয়ে ব্যস্ত কেরানীগঞ্জের পাইকাররা

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। বিকিকিনিও শেষ পর্যায়ে। তাই লেনদেনের খাতা নিয়ে লাভ-লোকসানের হিসাব-নিকাশ কষতে শুরু করেছেন কেরানীগঞ্জের তৈরি পোশাকের পাইকারী ব্যবসায়ীরা।

বুধবার দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তৈরি পোশাকের এই পাইকারী বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অনেকটা নিরবতা বিরাজ করছে। অলস সময় পার করছেন এখানকার পাইকারী ব্যবসায়ীরা। তবে বৃষ্টির মধ্যেও চলছে খুচরা বিক্রি।

বেচাকেনা নেই কেরানিগঞ্জে- ছবি মেহেদী

বেচাকেনা নেই কেরানিগঞ্জে- ছবি মেহেদী

এবার ঈদ মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন তৈরি পোশাকের পাইকারী প্রতিষ্ঠান দ্য জিন্স ক্লাব। কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আরবিন আহমেদের সাথে। তিনি অর্থসূচকের এই প্রতিবেদককে জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ঈদ ব্যবসা কমেছে।

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বছর পাইকারী বিক্রেতাদের ব্যবসা খারাপ। বছরের শুরুর দিকে হরতাল-অবরোধ থাকায় দেশের পরিস্থিতি খারাপ ছিল। লোকসানের ভয়ে আমরাও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিলাম। তাই বর্তমানে চাহিদা থাকলেও উৎপাদন সংকটে সরবরাহ করতে পারছি না।

আলামিন গার্মেন্টসের মালিক তপন চৌধুরি বলেন, গত বছরের হরতাল-অবরোধের প্রভাব এ বছর পড়েছে। এছাড়া অনেক পাইকার গত বছরের টাকা পরিশোধ করেনি। তাই কারখানার উৎপাদন কাজও ব্যহত হয়েছে। কারখানা ভাড়া, শো-রুম ভাড়া এবং শ্রমিকদের বেতন দিতে হয়েছে নিজেদের ব্যক্তিগত পুঁজি থেকে। অন্যদিকে, এবার রমজানের শুরু থেকেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। এ বছর ব্যবসা খারাপ হওয়ার ক্ষেত্রে এটাও অনেকটা দায়ী। গত বছর ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা বিক্রয় হলেও এবার তা কমে ৩০ থেকে ৪০ লাখে দাড়িঁয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘুমিয়ে পার করছেন কেরানিগঞ্জের এক পাইকার দোকানি। ছবি মেহেদী

ঘুমিয়ে পার করছেন কেরানিগঞ্জের এক পাইকার দোকানি। ছবি মেহেদী

রমজানের আগেই উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে তাছনুর প্লাজায় অবস্থিত শফিক গার্মেন্টস। কারখানাটির স্বত্তাধিকারী তাওহীদ মুরাদ বলেন, গত বছরের মালের টাকা এখনও পাইকারদের কাছে আটকে আছে। ফলে, এবার ঈদের আগে কারখানায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে গত বছরের বাড়তি মাল এ বছর বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, ঈদের আগে খুচরা বিক্রেতাদের রমরমা ব্যবসা হলেও পথে বসার উপক্রম হয়েছে অনেক পাইকারী ব্যবসায়ীকে। কারণ, খুচরা ব্যবসায়ীরাও মালের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না।

রাজধানীসহ সারা দেশের অভিজাত বিপণিবিতান থেকে ফুটপাতের মার্কেট দখল করে নিয়েছে কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর ও কালীগঞ্জের তৈরি বাহারী রং ও ডিজাইনের আধুনিক সব পোশাক। দামে কম ও কাপড়ের গুণগতমান থাকায় ক্রেতারা লুফে নিচ্ছেন এ অঞ্চলের তৈরি পোশাক।

এবারের ঈদে ছেলেদের প্যান্টের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স, পিকে, ব্যাং-ব্যাং, হিমেশ, রোমিও, বিকিং, ব্নেসন, প্রোমা, ডিসকভারি নামের প্যান্ট। এছাড়া গেঞ্জির মধ্যে রয়েছে কেএনজি, গিফিনি, জিকিউ, সিকেসহ অন্যান্য ফ্যাশনেবল গেঞ্জি ও বাহারী ডিজাইনের সব পাঞ্জাবি। পাশাপাশি মেয়েদের জন্যও রয়েছে বাহারী ডিজাইনের সব ধরনের পোশাক। এবছর মেয়েদের পোশাকের মধ্যে বেশি চলছে কিরণমালা, জলপরী, জলনুপুর, ফ্লোরটাচ, চেন্নাই এক্সপ্রেস প্রভৃতি ডিজাইনের ফ্যাশনেবল পোশাক।

সারাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের চাহিদা মিটিয়ে থাকে এখানকার তৈরি পোশাক। বিশেষ করে রমজানের ঈদ এবং শীতকাল এই দুই মৌসুমই এখানকার ব্যবসায়ীদের ব্যবসার মূল সময়। পবিত্র শবেবরাতের পর থেকেই এ এলাকার বাজার জমতে শুরু করে। এখন শেষ মুহূর্তে জমছে খুচরা বিক্রি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ