কিডস প্যারাডাইস: ছোটদের স্বর্গ রাজ্য
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল

কিডস প্যারাডাইস: ছোটদের স্বর্গ রাজ্য

Kids-Paradise

কিডস প্যারাডাইস

আট বছরের নোরাকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে এসেছে তার মা ও ছোট খালা। উদ্দেশ্য-ঈদের কেনাকাটা। এর আগে আরও দুটি মার্কেট ঘুরে এসেছে তারা। কিন্তু নোরার জন্য পছন্দসই তেমন কিছু পায়নি। যমুনা ফিউচার পার্কে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ তাদের চোখে পড়ে কিডস প্যারাডাইস। ভেতরে ঢুকে তাদের চোখ বিষ্ময়ে ছানাবড়া। দিনভর এমন একটি দোকানই তো খুঁজছিলেন তারা, যেখানে নোরার প্রয়োজনীয় অনেক কিছু পাওয়া যাবে।

Kids-Paradise-1

কিডস প্যারাডাইসে মনের আনন্দে খেলায় মগ্ন কয়েকটি শিশু

শুধু ঈদের জামা-জুতো নয়; এ দোকানে রয়েছে স্কুল ব্যাগ, বইপত্র, খেলনা, চকলেট। আছে খেলার ব্যবস্থা। দুটি মার্কেট ঘুরে ক্লান্ত, বিরক্ত নোরাকে তারা ছেড়ে দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে মনের আনন্দে খেলায় মেতে উঠল গেল সে। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে নোরার মা ও খালা তার জন্য জামা-জুতা দেখতে লাগলেন।

শপিং স্টোরটির নাম কিডস প্যারাডাইস। আসলেই এটি যেন শিশু-কিশোরদের জন্য ছোট্ট একটি স্বর্গ।

কিডস প্যারাডাইস মূলত ছোটদের প্রয়োজনীয় সব সামগ্রির একটি দোকান। বিশাল জায়গা নিয়ে সাজানো এ দোকানটি নানা দিক থেকে অনন্য। এখানে পণ্য কেনা-বেচার পাশাপাশি শিশুর বিনোদনকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড়দের মতো তারাও যেন শপিংয়ের আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে বিবেচনা থেকেই সাজানো হয়েছে পুরো দোকানটি।Kids-Paradise-2

রাজধানীতে শুধু শিশু-কিশোরদের পণ্য বিক্রি করে, এমন দোকান আরও দু’তিনটি আছে। তবে কিডস প্যারাডাইসের বিশেষত্ব হচ্ছে এর বিশালতা, পণ্যের উপস্থাপনে আলাদা ঢং এবং ছোটদের আনন্দ দেওয়ার জন্য নানা আয়োজন।

বিশেষ দেয়াল দিয়ে ঘেরা এ দোকানটির উপর বাইরে থেকে চোখ পড়লেই মুগ্ধ হতে হয়। দেয়ালে নানা রঙের আলো জ্বলতে থাকায় খুবই বর্ণিল এটি। দোকানের দু’পাশে সাজিয়ে রাখা হয়েছে স্পাইডারম্যানসহ কার্টুনের নানা চরিত্রের বড় পুতুল। প্রথম দেখায় বাচ্চাদের কাছে মনে হতে পারে তারা কোনো কার্টুনের রাজ্যে ঢুকছে।

দোকানের প্রবেশ পথে আছে টয় সেকশন। এখানে রয়েছে হরেক রকমের খেলনা। আছে প্লে এরিয়া। তারা এখানে মনের আনন্দে খেলতে পারে।

Kids-Paradise-4এখান থেকে ক্লকওয়াইজ সামনে দিকে গেলে প্রথমে পড়ে কফিশপ, মিনি রেস্টুরেন্ট। ঘুরে কেনা-কাটা করে ক্লান্ত শিশু এবং তার অভিভাবকরা কফিশপ ও রেস্টুরেন্টে বসে একটু সতেজ হতে পারবেন।

স্কুল স্টেশনারি সেকশনে স্কুল ব্যাগ, পানির পট, ফ্ল্যাক্স, বই-পত্র, খাতা-কলম, রং পেন্সিলসহ সব ধরনের জিনিস রয়েছে এই দোকানে। এছাড়া এখানে আছে বসে বই পড়ার ব্যবস্থা। কোনো বই বাচ্চাদের পছন্দ হলে, না কিনেও তারা এখানে বসে পড়তে পারে। মাঝে মধ্যেই এখানে অনুষ্ঠিত হয় বই পড়া ও ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে সব শিশুদের জন্য।

Kids-Paradise-5দোকানের চকলেট ক্যান্ডি কনফেকশনারি সেকশনে থরে থরে সাজানো রয়েছে মনোলোভা দেশি-বিদেশি চকলেট, ক্যান্ডি, ওয়েফার, বিস্কিট।

বাচ্চাদের পোশাক আর জুতার জন্য রয়েছে আলাদা দুটি সেকশন। একটি সেকশনে রয়েছে দুধ, হরলিকস জাতীয় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য।

গাড়ির সেকশনটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, এটি যেন কোনো অটোমোবাইল শো-রুম।

কিডস প্যারাডাইসে নবজাতক শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস রয়েছে। মশারী, প্যারাম্বুলেটর, ওয়াকারের এমন সমাহার খুব কমই দেখা যায়।

কিডস প্যারাডাইসের কর্ণধার মেজর আব্দুল ওয়াদুদ (অব.) জানালেন, এক ধরনের স্বপ্ন নিয়েই তিনি এ দোকান করেছেন। ছোট্টমনিরা যাতে আনন্দের সাথে কেনাকাটা করতে পারে, সে তাগিদ থেকে তিনি কিডস প্যারাডাইসকে সাজিয়েছেন।Kids-Paradise-6

তার মতে, অভিভাবকরা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে বাচ্চাদের জন্য নানা জিনিস কেনেন। কিন্তু অনেক সময় তারা তাদের জন্য পছন্দের জিনিস খুঁজে পান না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা এই কেনাকাটায় কোনো আনন্দ পায় না। তারা অনেকটা বিরক্ত হয়ে বাবা-মায়ের আঙুল ধরে ঘুরে বেড়ায়। শিশুদের জন্য শপিংটাকে আনন্দময় করে তোলার মতো করে কিডস প্যারাডাইসকে সাজানো হয়েছে।

মেজর ওয়াদুদ বলেন, একটি শিশু কোনো কেনা-কাটা না করেও শপিংয়ের মজা পেতে পারে কিডস প্যারাডাইস থেকে। কাটিয়ে যেতে পারে কিছুটা আনন্দময় সময়।

তিনি বলেন, ছোট বাচ্চারা প্রতিনিয়ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বপ্ন দেখে। ছোট ছোট বিষয়কে অনেক বেশি আবেগ নিয়ে জিজ্ঞাসা থাকে তাদের। কোনো কিছু নিজের কাছে নতুন মনে হলে তা ছুঁতে ইচ্ছা করে তাদের। আর নিজের করে নিতে পারলে তো কথাই নেই। মনে আনন্দ আর ধরে না। শিশুদের এই সব না জানা ইচ্ছা, আবেগ, অনুভূতি ও পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে তৈরি করেছি কিডস প্যারাডাইস। যেখানে এসে বাচ্চারা পূর্ণ আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ