৮ উইকেটের বড় হার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ক্রিকেট

৮ উইকেটের বড় হার

ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা। মূলত তরুণ বোলার রাবার দুর্দান্ত বোলিংয়ের উপর ভর করে এ জয় আসে প্রোটিয়াসদের। আজ ছিল রাবাদার অভিষেক ম্যাচ। আর এ ম্যাচেই হ্যাট্রিক করে বাংলাদেশকে প্রায় গুড়িয়ে দেন তিনি।

বাংলাদেশের দেওয়া ১৬১ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে ৩১ ওভার এক বলে দুই উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর আগে বাংলাদেশ ৩৬ দশমিক ৩ ওভার খেলে ১৬০ রানে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। রাবাদা একা ৬টি উইকেট নেন।

ছোট্ট টার্গেট। এটি তাড়া করতে গিয়ে তাই কখনোই চাপে পড়তে হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকাকে। যদিও ১৫ ওভারের মধ্যে ২টি উইকেট হারায় তারা, কিন্তু এরপর আর কোনো আঘাত হানতে পারেনি বাংলাদেশ।

ব্যাটিং ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা।  মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেন ১৪ রান। এরপর ১৪তম ওভারের প্রথম বলে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাজঘরে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক। নাসিরের বলে সাজঘরে ফেরার আগে কক করেন ৩৫ রান।

হাশিম আমলা ও কুইন্ট ডি কক

হাশিম আমলা ও কুইন্ট ডি কক

উদ্বোধনী জুটির পতনের পর দক্ষিণ আফ্রিকার হাল ধরেন ফাফ দু প্লেসি ও রাইলি রুশো (৫৩ বলে অপরাজিত ৪৫)। এরাই দলকে জয় পর্যন্ত নিয়ে যান। অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে ৯৯ রানের জুটি গড়েন এই দুই জন। ৬৩ রানে অপরাজিত থাকা দু প্লেসির ৭৫ বলের ইনিংসটি গড়া ৫টি চার ও একটি ছক্কায়।

এর আগে প্রতিপক্ষ দলের রাবাদা নামক বিস্ময়ের কাছে চূর্ণুবিচূর্ণ হয়ে ৩৬.৩ ওভারে মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই- বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি শুরু হয় বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শুরু না হওয়ায় ৫০ ওভারের ম্যাচ ৪০ ওভারে নামিয়ে আনা হয়।

বাংলাদেশের হয়ে উদ্বোধন করতে নামেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। শুরু থেকে এলোমেলো ব্যাট চালাতে থাকেন তামিম। সেই সুযোগই গ্রহণ করেন রাবাদা। তার গতি ও সর্পিল সুইংয়ে  ব্যাটিং ইনিংসের চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম। ওই ওভারের পঞ্চম বলে বেহারদিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লিটন দাস। এরপরের বলে মাহমুদউল্লাহকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রাবাদা। এ নিয়ে অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক গড়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। তার হ্যাটট্রিকে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

এ বিপর্যয়ের মধ্যে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারেননি বাংলাদেশের আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। বিলাসিতা শট খেলতে গিয়ে অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে ডুমিনির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। রাবাদার বলে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেন ২৭ রান। পরপর চার উইকেট তুলে নিয়ে  বাংলাদেশকে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেন রাবাদা।

সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করেন সাকিব ও মুশফিক। ভালই খেলছিলেন তারা। তবে বিপর্যয়ের মধ্যে আবারও এলোমেলো শট খেলার ভূত ভার করে বসে মুশুফিকের মাথায়। আশা জাগিয়েও সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। ইনিংসের ২০তম ওভারের পঞ্চম বলে ইমরান তাহিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ডুমিনির বলে সাজঘরে ফেরার আগে মুশফিক করেন ২৪ রান। দুজনে মিলে গড়েন ৪৯ রানের জুটি। যা বাংলাদেশ ইনিংসে সর্বোচ্চ।

এরপর ২৩তম ওভারের শেষ বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরনে সাব্বির রহমান। ক্রিস মরিসের বলে বোল্ড হওয়ার আগে সাব্বির করেন ৫ রান।

এদিকে ইনিংসের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকলেও এক প্রান্ত আগলে থাকেন বাংলাদেশের জান সাকিব আল হাসান। দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করলেও ২৬তম ওভারের প্রথম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ৪৮ রান নিয়ে অর্ধশতকের অপেক্ষায় থাকা সাকিবকে দারুণ এক গুগলি দিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ইমরান তাহির।

তারপর আবার রাবাদার শিকার হন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২৯তম ওভারের পঞ্চম বলে উইকেটের পেছনে কুইন্টন ডি ককের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। রাবাদার বলে আউট হওয়ার আগে মাশরাফি করেন  ৪ রান। এরই সাথে অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করেন রাবাদা।

এরপর বাংলাদেশ শিবিরে আবারও আঘাত হানেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুপের তাস রাবাদা। এবার তার শিকারে পরিণত হন বাংলাদেশের  টেইলএন্ডার ব্যাটসম্যান জুবায়ের হোসেন। ৩১তম ওভারের পঞ্চম বলে তাকে সরাসরি বোল্ড করে নিজের ষষ্ঠ উইকেট শিকার করেন রাবাদা।  জুবায়ের করেন ৫ রান।

বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ পেরেকটুকু ঠুকে দেন ক্রিস মরিস। নাসির হোসেনকে সরাসরি বোল্ড করে ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি। নাসির হোসেন করেন ৩১ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে মাত্র ১৬ রানে রাবাদা নেন ৬ উইকেট। যা অভিষেক ম্যাচে সবচেয়ে সেরা বোলিং ফিগার।  এছাড়া ক্রিস মুরিস ২টি এবং ডুমিনি ও তাহির নেন ১টি করে উইকেট।

এই বিভাগের আরো সংবাদ