হাতে হাত রেখে পরপারে!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

হাতে হাত রেখে পরপারে!

পৃথিবীতে প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য নাকি কাউকে না কাউকে সঙ্গী হিসেবে পাঠায় সৃষ্টিকর্তা। এই আপাত বাক্যে আমরা অনেকেই বিশ্বাসী। তবে কারও জন্য যে কাউকে স্পেশাল করে পাঠান হয় তার নজিরও কম দেখেনি এই পৃথিবী। সম্প্রতি এরকম ঘটনার আবারও সাক্ষী হলো মানুষের আবাস্থল পৃথিবী নামক এই গ্রহটি।

জিনেত্তি ও আলেকজান্ডার দম্পতি। ছবি মেইল অনলাইন

জিনেত্তি ও আলেকজান্ডার দম্পতি। ছবি মেইল অনলাইন

শুক্রবার মেইল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ৮ বছর বয়সে জিনেত্তির প্রেমে পড়েন আলেকজান্ডার টক্কো। দুজনই বেড়ে উঠতে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। তাদের মাঝে প্রেম আরও গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। অবশেষে প্রেম পরিপূর্ণতা লাভ করে বিয়ের মধ্য দিয়ে।

৭৫ বছরের বৈবাহিক জীবনে কেউ কারো কোনো কথায় কথনো মনোক্ষুন্ন হননি। জীবনের উত্থান-পতনে, চড়াই-উতরাইয়ে থেকেছেন একে অপরের পাশে। বিপদের চরম মুহূর্তে একজন আরেকজনকে আগলে রেখেছেন বুকে। জীবনটাই তারা কাটিয়েছেন একে অপরের প্রতি নিস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে। রোগে-শোকে কখনো কারো সাগায্যে এগিয়ে আসতে কুণ্ঠাবোধ করেন নি।

মধুর বন্ধনে আবদ্ধ থাকা এই দম্পতি সবসময়ই বলতেন, মরলেও যেন তারা এক বিছানায় একে অপরের হাতে হাত, বাহুতে বাহু রেখে মরতে পারেন। অবশেষে সেটিই ঘটল।

জুন মাসের প্রথমদিকে উরুর হাড় ভেঙে মারাত্মকভাবে আহত হন স্বামী আলেকজান্ডার।এ ঘটনায় একটি স্থানীয় ধর্মশালা তার বাড়িতে বিশেষ বিছানা পাঠায়। যা স্বামী ও স্ত্রীকে এক বিছানা থেকে বিছিন্ন করে ফেলে। তবে একই ঘরে স্বামীর পাশেই বিছানা করে থাকতেন প্রিয় স্ত্রী জিনেত্তি।

স্বামীর শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির সঙ্গে সঙ্গে মিসেস টক্কোও আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন্। ১৭ জুন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আলেকজান্ডার। তার শোতে মূহ্য গয়ে কয়েক ঘণ্টা পরই মারা যান প্রিয়তমা জেনেত্তি। মৃত্যুকালে আলেকজান্ডারের বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর ও জেনেত্তির বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

এ সম্পর্কে এ দম্পতির কন্যা এইমি টক্কো কুশাম বলেন, বাবা মারা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই মা মারা যান। আর মারা যাওয়ার সময় মা বলেছেন, দেখ! তুমি যা চেয়েছিলে তাই হচ্ছে। তুমি আমার হাতে হাত রেখে পরপারে গিয়েছ। আমি তোমাকে খুব ভালবাসি। আমার জন্য অপেক্ষা কর। খুব শিগগিরই সেখানে আমায় পাবে তুমি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ