তহবিল প্রত্যাহার: ইসির প্রকল্প বন্ধ করছে ইউএনডিপি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

তহবিল প্রত্যাহার: ইসির প্রকল্প বন্ধ করছে ইউএনডিপি

‘বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প চলতি মাসের শেষে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি। মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই নির্বাচন কমিশনের ওই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে সংস্থাটি। দাতারা তহবিল প্রত্যাহার করায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএনডিপি।

Election

৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে হামলা করে দুর্বৃত্তরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অর্থে ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে পশ্চিমাদের ‘অসন্তোষের’ কারণেই অর্থায়ন প্রত্যাহার করল দেশগুলো।

গত বছরের উপজেলা নির্বাচন এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম এবং এর তদন্তে গড়িমসি নিয়ে আগেই মন্তব্য করেছিলেন ওই দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

১০ম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি জোট। এতে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠার পরও কোনো তদন্ত করেনি নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি সিটি নির্বাচনে অনিয়মের আভিযোগ তদন্ত না হওয়াকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন।

তবে প্রকল্পে তহবিল বাতিলের চিঠিতে দাতারা নির্বাচন বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি বলে জানিয়েছেন ইউএনডিপির এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় যে সব প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মকাণ্ড ছিল সেগুলো প্রকৃতপক্ষে শেষ হয়ে গেছে।

সিটি নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র

সিটি নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র

তবে ইউরোপের এক কূটনীতিক জানান, প্রকল্প বাতিলের বিষয়টি ‘প্রতীকী’। জাতীয় নির্বাচন বর্জনের পর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব দল অংশ নেওয়ায় আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। আমরা ওই সব অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চেয়েছিলাম, কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের কথায় কান দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে আমরা মনে করছি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমাদের করার কিছু নেই।

তিনি আরও জানান, আগামী মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। তবে এরইমধ্যে প্রকল্পের মূল কাজগুলো শেষ হয়েছে।

ইউএনডিপি বলেছে, এই প্রকল্পে ভোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণ এবং ভোটার নিবন্ধকরণ পদ্ধতিসহ আধুনিক ভোট পদ্ধতির প্রবর্তন করে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে কাজ করা হয়েছে। ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থায় সহযোগিতা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে ‘গণতান্ত্রিক শাসন শক্তিশালী’ করার কাজ চলবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ