উৎপাদন দ্বিগুণ করবে ওমেরা পেট্রোলিয়ামস
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার
এলপিজিকে প্রমোট করছে সরকার

উৎপাদন দ্বিগুণ করবে ওমেরা পেট্রোলিয়ামস

Omera-LPG

ওমেরা এলপিজি

প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত সম্পদ বিবেচনায় লিকুফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজিকে প্রমোট করতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

এদিকে সম্ভাবনাময় এ বাজারে নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে যাচ্ছে ওমেরা পেট্রোলিয়ামস লিমিটেড। দেশের সবচেয়ে বড় এলপিজি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি আগামি এক বছরের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করবে কোম্পানিটি। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ লাখ বাসা-বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। এর বাইরে আরও প্রায় ২ লাখ অবৈধ সংযোগ থাকতে পারে বলে খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা। গ্যাসের স্বল্প মজুদের বিষয়টি মাথায় রেখে এ গ্যাস ব্যবহারের অগ্রাধিকার ঠিক করতে যাচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে শিল্প খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে পারে। এ কারণে বেশ কিছুদিন ধরে নতুন করে গ্যাসের আবাসিক সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আবাসিক সংযোগ ফের চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

আবাসিক সংযোগ বন্ধ রাখলেও নাগরিকদেরকে যাতে জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, তার জন্য বিকল্প হিসাবে এলপিজিকে সামনে নিয়ে আসতে চায় সরকার। প্রয়োজনে নীতি সহায়তা দিতে এ খাতের প্রসার এবং এলপিজি সহজলভ্য করার বিষয়টি পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় গত ১৬ জুন একটি বৈঠক করেছে। আর সে বৈঠকে ওমেরা এলপিজি এবং বসুন্ধরা এলপিজির প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এদিকে এলপিজি প্রস্তুতকারকদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এ শিল্পের বিকাশে কিছু সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক গ্যাসের অবৈধ সংযোগগুলো চিহ্নিত করে বন্ধ করা এবং বৈধ গ্যাস সংযোগে মাসিক ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চুলার সিঙ্গেল বার্নার প্রতি মাসিক ফি ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হলে সরকার বছরে কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা পাবে।এ অর্থ এলপিজির ভর্তুকী ও এ খাতের বিকাশে ব্যয় করা সম্ভব। এতে বর্তমানে প্রচলিত জ্বালানিতে রানা-বান্না করতে যাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।এছাড়া জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার কমলে বনের উপর চাপ কমবে।

এছাড়াও প্রস্তাবে সিলিন্ডার প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর উপর মনিটরিং বাড়ানোর কথা বলেছে অ্যাসোসিয়েশন। কারণ বাজারে নিম্নমানের বিপুল সিলিন্ডার কেনা-বেচা হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার আশংকা দিন দিন বাড়ছে।

এলপিজির এ সম্ভাবনার মুখে ওমেরা পেট্রোলিয়ামস তাদের উৎপাদন দ্বিগুণ করার কথা ভাবছে। বর্তমানে ওমেরার মাসিক সিলিন্ডার উৎপাদন ক্ষমতা ১২ থেকে ১৪ হাজার। এটি বাড়িয়ে ৩০ হাজারে উন্নীত করার কথা ভাবা হচ্ছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর তিন মাসের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় কোম্পানিটি খুবই উজ্জীবিত। গত তিন মাসে ওমেরা পেট্রোলিয়ামস প্রায় দেড় লাখ সিলিন্ডার বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে। আর এ সময়ে প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহক পুনরায় সিলিন্ডারে গ্যাস ভরেছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, দেশে এলপিজির সম্ভাবনা ব্যাপক। বর্তমানে বছরে ১ লাখ ১০ হাজার টনের মতো এলপিজি আমদানি করা হয়। আগামি ৫ বছরের মধ্যে চাহিদা ২ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। আর সরকার যদি নীতি সহায়তা দেয়, তাহলে এ চাহিদা বাড়বে আরও বেশি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক বিষয়ে তিনি বলেন, এলপিজির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয় মন্ত্রণালয় খুবই আন্তরিক। প্রাকৃতিক গ্যাসের স্বল্প মজুদের কথা বিবেচনায় সরকার বিকল্প জ্বালানিকে উৎসাহিত করতে চায়।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর তিন মাসে আমরা ধারণার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি। তাই বাড়তি চাহিদা পূরণে আমরা সিলিন্ডার উৎপাদন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এর জন্য আলাদা ইউনিট করতে হবে না। বর্তমান ইউনিটেই বাড়তি মেশিনারিজ স্থাপন করে সিলিন্ডার উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব।

এই বিভাগের আরো সংবাদ