সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় কুমির!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় কুমির!

শহরের রাস্তায় বড় বড় গর্ত; সড়কের কোথাও কোথাও চলছে পানির পাইপ লাইনের কাজ। বাংলাদেশে এমন চিত্রের দেখা মেলে সচরাচর। এখানে শহর বা গ্রামের রাস্তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেয়। যেখানে রাস্তা আছে, সেখানেই আছে গর্ত আর খোড়াখুঁড়ি। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে আন্দোলন করেছেন স্থানীয়রা। কখনও সড়কে ধান বা কোনো গাছের চারা লাগানো হয়েছে। আবার কোনো কোনো সড়কে দেওয়া হয়েছে মাছের পোনা।

crocodile

বেঙ্গালুরুর একটি সড়কে গর্তের মধ্যে পুকুর ও কুমির তৈরির কাজ করছেন শিল্পী বাদল নানজুন্দাস্বামী।

সড়কের উন্নয়ন কাজে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে আরও নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। কখনও কখনও পেয়েছে সফলতা; আবার এতো কিছু করেও ভাগ্যদেবীর দেখা মেলেনি অনেক জায়গায়।

এবার রাস্তা মেরামতের দাবি জানিয়ে ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের বেঙ্গালুরুর এক শিল্পী। রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রাস্তায় এনেছেন আস্ত কুমির। এতে সফলতাও পেয়েছেন তিনি। রাত পোহাতেই শুরু হলো রাস্তা মেরামতের কাজ। দিন শেষেই পাওয়া গেল ইতিবাচক ফল।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরে বেঙ্গালুরুতে বৃষ্টির কারণে রাস্তার বিভিন্ন স্থানের গর্তে জমেছে পানি। শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোর বেহাল দশার কথা জেনেও কাজের উদ্যোগ নেয়নি সরকার। অবশেষে রাস্তায় এলো কুমির; আর একদিনের মধ্যেই ঠিক হলো শহরের ব্যস্ততম কয়েকটি রাস্তা।

তবে এটি প্রকৃত কুমির ছিল না। সড়ক সংস্কারের দাবিতে ভাঙ্গা রাস্তায় জমে যাওয়া পানিতে এই কুমির তৈরি করেছেন বেঙ্গালুরুর শিল্পী বাদল নানজুন্দাস্বামী। এনিয়ে আলোচনা ও সরকারের সমালোচনার ঝড় উঠে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে।

বাদল নানজুন্দাস্বামী জানান, শহরের রাস্তাগুলোর অবস্থা দেখে খারাপ লেগেছিল। রাস্তার কোথাও বড় বড় গর্ত। আবার কোথাও কোথাও জলের পাইপ লাইনের অসমাপ্ত কাজ। তাই সংস্কার কাজের এগিয়ে আসতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রাস্তার গর্তে ছোট কৃত্রিম পুকুর বানিয়ে তাতে আস্ত একটি কুমির তৈরি করেছি।

তিনি জানান, প্রায় ৯ ফুট লম্বা এই কুমির তৈরি করতে প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাস্তায় জ্যান্ত কুমির দেখে অনেকটা ভয় কাজ করেছে সবার মধ্যে। এটা নকল কুমির- তা বোঝাই যাচ্ছিল না।

এই ধরনের অভিনব প্রতিবাদে এর আগেও কাজ করেছেন বেঙ্গালুরুর এই শিল্পী। ২০১৪ সালে শহরের বেশ কয়েকটি ম্যানহোলের মুখ বন্ধ করতে নিজের শিল্পকর্মকে কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি।

শিল্পী বাদল বলেন, আমাদের প্রত্যেকেরই প্রতিবাদের একটা পৃথক ধরন থাকে। আমি আমার শিল্পকেই প্রতিবাদের হাতিয়ার করেছি।

সূত্র: ইন্ডিয়াটুডে

এই বিভাগের আরো সংবাদ