'প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই উন্নয়ন'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই উন্নয়ন’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ও যোগাযোগ জোরদারের মাধ্যমে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভৌগলিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে জনগণের জীবনমান উন্নত করে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করাই আমাদের লক্ষ্য। অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ‘বিসিআইএম ইকোনমিক করিডর (বিসিআইএম-ইসি)’ নামক যৌথ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি- মহুবার রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ছবি- মহুবার রহমান

লন্ডনের পার্ক লেন হোটেলে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এই সংবর্ধনা সভা আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছি আমরা। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভূটান উন্নয়নের স্বার্থে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, ছিটমহলবাসীদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৪ সালের ১৬ মে নয়াদিল্লিতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সংবিধানের ৩য় সংশোধনীর মাধ্যমে এই চুক্তি অনুমোদন করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সরকারগুলো এই চুক্তি কার্যকরে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে ভারতের পার্লামেন্ট বহু প্রতীক্ষিত এই চুক্তি অনুমোদন করতো এবং ছিটমহলবাসীদের ভোগান্তির অবসান হতো। জিয়া, এরশাদ, খালেদা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলো ছিটমহলবাসীদের সমস্যা সমাধানের সাহস করেনি।

তিনি বলেন, ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন সরকারের বড় ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাফল্য। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে একের পর এক সমস্যার সমাধান করে। ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধানও আমরাই করেছি। মিয়ানমার-ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেও আন্তর্জাতিক সাশিলী আদালতে মামলা রজ্জুর মাধ্যমে সমুদ্রসীমা বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছি।

দারিদ্র্যকে দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন শত্রু উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে লড়াই চালাতে হবে। কেবল নিজেদের নিয়ে ভাবনাটা সঠিক হবে না। প্রতিবেশীদের নিয়েও ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, বিদ্যুৎ ও আইসিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে বতর্মান সরকার। দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৭ শতাংশে হ্রাস করেছে। চরম দারিদ্র্যের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে গত ৬ বছরে ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। দেশের দ্রুত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে আমরা দেশে ২০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করেছি।

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, দেশের খাদ্য উৎপাদন ৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার টনে পৌঁছেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।

তিনি বলেন, নিজের জন্য নয়; আমার একমাত্র লক্ষ্য, দেশবাসীর কল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করছি। দেশবাসীর ভালোবাসা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অগ্রগতির পথে অনেক বাধা আসে। সব প্রতিবন্ধকতা ভেঙ্গে আমরা এগিয়ে যাবো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দেওযা মানপত্র পাঠ করেন বিখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্নের লেবার দলীয় এমপি এবং বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিকী, কার্ডিফ সেন্ট্রালের লেবার দলীয় এমপি জো স্টিভেনস, ইলফোর্ড নর্থের লেবার দলীয় এমপি ওয়েস স্ট্রিং, ইলফোর্ড সাউথের লেবার দলীয় এমপি মাইক গেপস এবং সুতন ও চীপের রক্ষণশীল দলের এমপি পাউল স্কাউলি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপি, ঝিনাইদাহের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ.কে.এম. শামীম চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে অন্যান্য শহীদ, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন করে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সূত্র: বাসস

এই বিভাগের আরো সংবাদ