বাদির সাক্ষ্য বাতিলে হাইকোর্টে খালেদার আবেদন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

বাদির সাক্ষ্য বাতিলে হাইকোর্টে খালেদার আবেদন

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া দাতব্য ও এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বাদির সাক্ষ্য বাতিলে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন তিনি। একইসঙ্গে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদনও করেছেন তিনি। আদালতের কাছে রুল চেয়ে তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

Khaleda_Court_5

রাজধানীর বকশীবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গতকাল রোববার খালেদার পক্ষে এই ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এ.কে.এম. এহসানুর রহমান। আজ সোমবার বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম ও বিচারপতি জে.বি.এম. হাসানের বেঞ্চের কার্যতালিকায় বিষয়টি রাখা হয়েছে।

ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সোয়া ৫ কোটি টাকা দুর্নীতির ২ মামলার বিচার চলছে।

নির্ধারিত দিনে খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বাদির সাক্ষ্য শোনেন আদালত। গত ২৫ মে জজ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন একটি মামলায় বাদি দুদক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ।

ওইদিন শুনানি শেষে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে ২ মামলায় বাদির জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৮ জুন দিন ঠিক করে দেন। হারুনুর রশিদের ওই সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন জানান খালেদার আইনজীবীরা। খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আবারও সাক্ষ্য নেওয়ার নির্দেশ দিতে হাইকোর্টের কাছে আবেদন করেছেন তারা।

সেইসঙ্গে ওই সাক্ষ্য কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে রুল চেয়ে তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে। এতে দুদক ও সরকারকে বিবাদি করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান বলেন, আসামির উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণের নিয়ম থাকলেও গত ৫টি তারিখে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বাদির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২৫ মে সাক্ষ্য না নেওয়ার আবেদন জানানো হলে আদালত তা খারিজ করে দেন। তাই আমরা হাইকোর্টে আবেদন করেছি।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এর আগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রমনা থানায় অন্য মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন হারুনুর রশিদ।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপস্থিতিতে ২ মামলায় অভিযোগ গঠনের পর তার বৈধতা ও অভিযোগ গঠনকারী বিচারকের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেও উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তবে তার আবেদনগুলো আপিলেও খারিজ হয়ে যায়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ