যেভাবে ধরে রাখতে পারেন স্মার্টফোনের চার্জ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টেক

যেভাবে ধরে রাখতে পারেন স্মার্টফোনের চার্জ

Smartphone-battery-saver

স্মার্টফোন ব্যাটারি সেভার

স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। হাতেএকটা স্মার্টফোন না থাকলে নিজেকে যেন স্মার্টই মনে হয় না। তবে শুধু স্মার্টনেস নয়, স্মার্টফোনের উপর আমাদের নির্ভরশীলতাও কম নয়। জরুরী ইমেইল চেক করা ও পাঠানো, চাকরির সার্কুলার খোঁজা, ফেসবুকে জরুরী কোনো ম্যাসেজ দেওয়া-সব মিলিয়েই স্মার্টফোনের উপর আমাদের নির্ভরতা বাড়ছে।

কিন্তু স্মার্টফোন হাতে নিয়েও অনেক সময় আমাদের চরম আনস্মার্ট হয়ে পড়তে হয়, যদি চার্জের অভাবে হঠাৎ বন্ধ হয়ে পড়ে ফোনটি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নিজেকে বড় অসহায় লাগে তখন। অন্যদিকে সম্পার্ঠফোনের ধরনটাই এমন-যতই চার্জ দেওয়া হোক না কেনো, একবারের চার্জে পুরো দিন পার করা বেশ কঠিন।

তাই স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ বেশিক্ষণ ধরে রাখার উপায় জানা থাকা ভালো। আপনাদের জন্য অর্থসূচকের ১০টি টিপসঃ

১. ফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুনঃ

প্রতিটি স্মার্টফোন তৈরির সময়ই (ডিফল্ট সেটিং) তাতে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্রাইটনেস দেওয়া থাকে। চাইলেই এ ব্করাইটনেস কমানো বা বাড়ানো যায়। ব্রাইটনেসের সাথে আছে শক্তির সম্পর্ক। যত বেশি ব্রাইটনেস, তার জন্য তত বেশি শক্তি প্রয়োজন। তাই ব্রাইটনেস কমিয়ে আপনার প্রয়োজন অনুসারে সেট করুন। যখন দীর্ঘক্ষণ ফোন চার্জ দেওয়ার সুযোগ থেকে দূরে থাকবেন অথবা কোনো কারণে ফোনটি বেশি ব্যবহার করতে হবে-তখন ব্রাইটনেস কমিয়ে ৫০ এর নিচে আনুন। এতে আপনার ব্যাটারির সাশ্রয় হবে।

২. স্লিপ টাইম কমিয়ে নিনঃ

প্রতিটি মোবাইল সেটেই একটি স্লিপ টাইম দেওয়া থাকে। ওই সময় পর্যন্ত ফোনটি জেগে থাকে। জ্বলতে থাকে স্ক্রিনটি। আর এ সময়ের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনটি ঘুমের দেশে চলে যায়। ফোনটি জেগে থাকলে তার জন্য শক্তি প্রয়োজন হয়। তাই স্লিপ টাইম কমিয়ে দিলে সেটি তাড়াতাড়ি ঘুমের দেশে চলে যাবে, বেঁচে যাবে আপনার ব্যাটারির চার্জ।

সাধারণভাবে ৩০ সেকেন্ড সময় থাকে স্লিপ টাইম হিসেবে। এটি কমিয়ে আপনি ১৫ সেকেন্ড করতে পারেন, চাইলে আরও কমিয়ে নিনে পারেন।

৩. কাজ শেষে ক্লোজ করুন অ্যাপঃ

অনেক সময় আমরা কাজ শেষ হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট অ্যাপটি বন্ধ করি না। সেটি মিনিমাইজ করে রাখি। এতে কিন্তু অ্যাপটি সচল থাকে। আর তা থাকতে গিয়ে শুষে নিতে থাকে প্রয়োজনীয় শক্তি।  কিছু কিছু অ্যাপ অনেক বেশি চার্জ খায় তাই কাজ শেষে অ্যাপটি বন্ধ করে দিলে ব্যাটারির সাশ্রয় হবে।

৪. ব্যাটারি সেভার অন রাখুনঃ

অনেক ফোনেই ব্যাটারি সেভার মুড থাকে। এই মুডে থাকলে ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয় হয়।  ভার্সনের ফোনে এই অপশন আপনি পাবেন। যেখান থেকে আপনি ব্যাটারি সেভারের মাধ্যমে ব্যাটারি সেভ করতে পারেন।

এ অপশনটি চালু করতে আপনাকে প্রথমে Settings অপশনে যেতে হবে। সেখান থেকে Battery এরপর Battery Saver অপশনটি চালু করতে হবে।

৫. ব্লুটুথ বন্ধ করে দিনঃ

অন্য ফোন থেকে ডাটা (ছবি, গান, ভিডিও ক্লিপ) নেওয়ার জন্য ব্লুটুথ ব্যবহার করি আমরা। এটি অন্য কোনো কাজে আসে না। তাই ওই সময় ছাড়া এটি চালু রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। ডাকা দেওয়া-নেওয়ার জন্য খোলা হলে কাজ শেষেই এটি বন্ধ করে দিন। কারণ ব্লুটুথ অনেক চার্জ নেয়। আপনি যেখানেই যান না কেনো, ব্লুটুথ খোলা থাকলে সেখানে অন্য ব্লুটুথের সন্ধান করতে থাকবে সেটি। তাই এটি বন্ধ থাকলে কিছুটা চার্জ বাঁচবে।

সেটের হোম স্ক্রিনে ব্লুটুথের আইকন থাকতে পারে। এখান থেকে সহজেই সেটি বন্ধু করে দেওয়া যায়। আবার Settings এ গিয়ে সেখান থেকেও বন্ধ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে Settings এ যেতে হবে। সেখান থেকে Wireless & networks  এ। সেখানে Blutooth সহ বেশ কিছু অপশন দেখাবে। আপনি Blutooth এ গিয়ে সেটি off করে দিন।

৬.  wallpaper ব্যবহারে সতর্ক হোনঃ

wallpaper এর সাথে ব্যাটারির চার্জের সম্পর্ক আছে। বেশি পিক্সেলের wallpaper এর জন্য বেশি চার্জ দরকার। তাই wallpaper ব্যবহারে সতর্ক হোন। তুলনামূলক কম ব্রাইটনেসের wallpaper ব্যবহার করুন। এতে আপনার ব্যাটারি সাশ্রয় হবে।

৬) GPS বন্ধ রাখুনঃ

বিশেষ কোনো জায়গা খুঁজতে হলে গুগল ম্যাপসের মাধ্যমেই তা করতে পারেন। এর জন্য GPS (Global Positioning System) দরকার নেই। তাই এটি বন্ধ রাখাই ভালো

৮. ভাইব্রেশন বন্ধ রাখুনঃ

বিশেষ পরিস্থিতি না হলে ফোন ভাইব্রেশন মুডে রাখার প্রয়োজন হয় না। তাই ভাইব্রেশন মুড অফ করে দিন। ভাইব্রেশনের জন্য প্রচুর শক্তি দরকার। তাই এটি বন্ধ থাকলে শক্তি তথা ব্যাটারির সাশ্রয় হবে।

৯. অ্যানিমেশন অফ রাখুনঃ

ফোনে থাকা ফ্ল্যাশধর্মী কিছু এনিমেশন প্রচুর চার্জ খায়। তাই এগুলো বন্ধ রাখাই ভালো।

১০. বন্ধু রাখুন অপ্রয়োজনীয় অ্যাপসঃ

ফোনের বেশিরভাগ অ্যাপসই কার্যত আমরা ব্যবহার করি না। কিন্তু এগুলো ডিফল্টভাবেই চালু থাকে। মাঝে মধ্যে আবার আপডেট নেয়। এসবের জন্য ব্যাটারির শক্তি তথা চার্জ ব্যয় হয়। তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো বন্ধ রাখুন। প্রয়োজনের সময় যেটি দরকার, সেটি চালু করে নিলেই হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ