'২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষের ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিতে সরকার সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সদস্য এম এ হান্নানের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ফাইল ছবি

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ফাইল ছবি

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং সুদূর প্রসারী ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যর্থতার কারণে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যর্থ হয়। তখন লোডশেডিং ছিল অসহনীয় পর্যায়ে। কোন কোন স্থানে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকতো। বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ পেতে হলে তৎকালীন দুর্নীতি ভবন, হাওয়া ভবনে বিপুল পরিমাণে টাকা-পয়সা দিতে হতো।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১শ’ মেগাওয়াট। ২০০১ সালে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা হয় ৪ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট। পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর স্থলে উৎপাদন কমেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ খাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৩ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যুতায়িত জনসংখ্যা বর্তমানে ৭০ ভাগে উন্নীত হয়েছে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে ৫ কোটি ৯৪ লাখ লোক বিদ্যুৎ সুবিধা পেত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬৮ লাখে। শুধুমাত্র ২০১৫ সালের মে মাসে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৩৯টি নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসে প্রায় ১৮ লাখ লোক বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি খাতে ৪ হাজার ৫১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৬টি এবং বেসরকারি খাতে ২ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মোট ৬ হাজার ৭৬৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি খাতে ১ হাজার ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫টি এবং বেসরকারি খাতে ৩ হাজার ১৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মোট ৪ হাজার ৭৯৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি খাতে ৭ হাজার ৮৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এছাড়াও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ভারত থেকে ৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিবেশী দেশসমূহ হতে ভবিষ্যতে আরও বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

এম এ হান্নানের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ চুরি ও অপচয় রোধ করতে ইতোমধ্যে প্রি-পেইড মিটার চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা শহরে এবং পরবর্তীতে সারাদেশে এ মিটার চালু করা হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কষ্টার্জিত বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে অতিরিক্ত বিল আসবে না এবং দেশের সকল মানুষকে দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধার আওয়াত আনা যাবে।

তথ্যসূত্র: বাসস

এই বিভাগের আরো সংবাদ