প্রভাব নেই রিলায়েন্স আদানির শেয়ারের দামে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার
বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রস্তাব

প্রভাব নেই রিলায়েন্স আদানির শেয়ারের দামে

Reliance-Adani

রিলায়েন্স ও আদানি পাওয়ারের লোগো

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ৩শ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে চমক জাগিয়েছে ভারতের শীর্ষ দুই কোম্পানি রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড ও আদানি পাওয়ার। তবে এত বড় বিনিয়োগের খবরেও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি ভারতের পুঁজিবাজারে কোম্পানি দুটির শেয়ারের দামে। খবর ইকোনমিক টাইমস, এনডিটিভি প্রফিটের।

বিনিয়োগ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করার পর সোমবার ছিল প্রথম কর্মদিবস। এদিন ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে রিলায়েন্স পাওয়ারের শেয়ারের দাম ১ শতাংশের মতো বাড়লেও কমেছে আদানির দাম। মঙ্গলবার আদানি পাওয়ারের শেয়ারের দাম দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়লেও, ১ শতাংশ কমেছে রিলায়েন্স পাওয়ারের শেয়ারের দাম।

মঙ্গলবার দিন শেষে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে রিলায়েন্স পাওয়ারের শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ৪৫ টাকা। দিনোর সর্বোচ্চ দর ছিল ৪৫ টাকা ৭৫ পয়সা, আর সর্বনিম্ন দাম ৪৪ টাকা ৫৫ পয়সা। আর আদানির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর উঠে ৩১ টাকা ৪৫ পয়সা। সর্বনিম্ন ২৯ টাকা ৯০ পয়সায় নামে। দিন শেষে দাঁড়ায় ৩০ টাকা ৬০ পয়সা।

Reliance-Share-Price

রিলায়েন্স পাওয়ারের ৫ দিনের লেনদেন

গত ৬ জুন শনিবার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাথে ৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আলাদা দুটি সমঝোতা স্মারক সই করে রিলায়েন্স পাওয়ার ও আদানি পাওয়ার লিমিটেড।

এমওইউ অনুসারে ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স পাওয়ার মহেশখালি অথবা মেঘনাঘাটে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে। কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত হবে প্রাকৃতিক গ্যাস। তবে এর জন্য বাংলাদেশকে কোনো গ্যাস সরবরাহ করতে হবে না। কোম্পানিটি তরলীকৃত (এলএনজি) গ্যাস আমদানি করে তা দিয়ে কেন্দ্রটি চালাবে।

অন্যদিকে আদানি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার প্লান্ট বাংলাদেশের মহেশখালী অথবা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে ১ হাজার ৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে।

Adani-Share-Price

আদানি পাওয়ারের ৫ দিনের লেনদেন

আমাদের বাজারে যে কোনো ধরনের চুক্তি বা মূল্য সংবেদনশীল খবর প্রচার হতে না হতেই বাজারে ওই শেয়ারের দরে প্রভাব পড়তে শুরু করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম বেড়ে আকাশচুম্বী হয়। কিন্তু  রিলায়েন্স পাওয়ার ও আদানি পাওয়ারের বিনিয়োগ সমঝোতার আগে বা পরে তার কোনোই প্রভাব পড়েনি কোম্পানি দুটির শেয়ারের দামে। বরং দুটি কোম্পানির শেয়ারই এখন গত এক বছরের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

ভারতের বিনিয়োগকারীরা অনেক পরিণত বলে তারা যথেষ্ট যৌক্তিক আচরণ করেন

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিনিয়োগকারীরা অনেক পরিণত বলে তারা যথেষ্ট যৌক্তিক আচরণ করেন। সমঝোতা যে একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের একটি বিষয়, বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হওয়ার নিশ্চয়তা নয় তা তারা বুঝেন। তারা প্রকৃত অগ্রগতি দেখেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে চান।

তাছাড়া রিলায়েন্স পাওয়ার এবং আদানি পাওয়ার অনেক বড় কোম্পানি হলেও তাদের উপর শতভাগ আস্থা নেই বিনিয়োগকারীদের। অতীতে তাদের ঘোষিত অনেক প্রকল্পই আলোর মুখ দেখেনি অথবা বাস্তবায়ন পর্যায় থেকে ফিরে এসেছে। আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের মতো ভুটান, নেপালের সাথেও সমঝোতা করেছে। কিন্তু এরপর সেগুলোর ন্যুনতম অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে রিলায়েন্স পাওয়ারের অনেক উচ্চাভিলাসি পরিকল্পনা পরে কোম্পানিটির জন্য গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়। এমনই একটি হচ্ছে অন্ধ্র প্রদেশের মহাকাট বিদ্যুৎকেন্দ্র। এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালাতে না পেরে বন্ধ রেখেছে রিলায়েন্স। সেটিই এখন বাংলাদেশে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ