‘কিশোরগঞ্জের রাজাকার’ হাসানের রায় মঙ্গলবার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘কিশোরগঞ্জের রাজাকার’ হাসানের রায় মঙ্গলবার

একাত্তরের মানবতাবিরোধী মামলায় আগামীকাল মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের ‘রাজাকার’ পলাতক সৈয়দ মো. হাসান আলীর বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হবে।

tribunal

ফাইল ছবি

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার রায় ঘোষণার এই দিন ঠিক করেন। এর আগে ২ পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ২০ এপ্রিল রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয় মামলাটি। মানবতাবিরোধী মামলায় ট্রাইব্যুনালের ১৯তম রায় এটি।

হাসান আলীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধে কিশোরগঞ্জে ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং ১২৫টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট হাসান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন। ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়। আসামির অনুপস্থিতিতে ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার কাজ শুরু হয়।

আসামির পক্ষে মামলা লড়ার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আব্দুস শুকুর খানকে আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন হাসান আলী। ওই এলাকায় তিনি ‘রাজাকারের দারোগা’ ও ‘রাজাকার ওসি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এতে বলা হয়েছে, সৈয়দ হাসান আলীর বাবা সৈয়দ মুসলেহ উদ্দিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে অখণ্ড পাকিস্তানের ধারণা মাথায় নিয়ে তিনি রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানা সদর দখল করে ক্যাম্প স্থাপন করে। হাসান আলী তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জ মহকুমার তাড়াইল থানায় রাজাকার কমান্ডার হিসেবে নিয়োজিত হন।

তদন্ত সংস্থা বলছে, হাসান আলী তার সহযোগীদের নিয়ে তাড়াইল থানার বিভিন্ন এলাকা এবং কিশোরগঞ্জে নির্যাতন, হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, জোর করে অর্থ আদায় ও ধর্মান্তরিত করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান। তার নির্দেশেই তাড়াইলে হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগেও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাছিহাতা গ্রামে থাকতেন হাসান আলী।

এই বিভাগের আরো সংবাদ