বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেই অর্থনৈতিক জোন: আমু
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেই অর্থনৈতিক জোন: আমু

দেশি-বিদেশি সব উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বিদেশিদের  বিনিয়োগের জায়গা করে দেওয়ার জন্যই অর্থনৈতিক জোনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলায়তনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আমু বলেন, সবাই শুধু বলেন, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই। কিন্তু আমি বলতে চাই বিনিয়োগের যথেষ্ঠ পরিবেশ রয়েছে। প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসেন জমির জন্য। তাদেরকে বিনিয়োগের জায়গা করে দেওয়ার জন্য সরকার অর্থনৈতিক জোন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারের বাজেটে তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) ৪২টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতকে অর্থনৈতিক জোনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ বছরই পাঁচটি জোনের কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটে পিপিপি খাতে ৬ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মংলা বন্দরে দুইটি জেটি স্থাপন, গাজীপুরে হাইটেক পার্ক, মহাখালতি আইটি ভিলেজসহ মোট ৪২ টি প্রকল্পের বিপরীতে এই অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাঁচ বছরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে শতাধিক প্রকল্প তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি বাজেটে অর্থও বরাদ্দ রাখা হয়েছে পিপিপি প্রকল্পে। তবে এ খাতে একটি পয়সাও ব্যয় হয়নি। আলোর মুখ দেখেনি কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন। এমনকি প্রকল্পে অর্থায়ন করতে বেসরকারি খাতের সামনে কোনো প্রকল্প উত্থাপনও করা সম্ভব হয়নি। বাস্তবায়নে গতি না এলেও আগামি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৪২ টি প্রকল্প রাখা হয়েছে পিপিপি খাতে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে তৃতীয় সমুদ্রবন্দর স্থাপন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং যাত্রাবাড়ী-সুলতানা কামাল সেতু-তারাবো পিপিপি সড়কের বিষয়টি নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪২টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১৬টি, অর্থনৈতিক অঞ্চল ৮টি, পর্যটন ৪টি, স্বাস্থ্য খাতে ৮টি, আবাসন খাতে ৫টি এবং শক্তি খাতে একটি প্রকল্প রয়েছে।

পরিবহন খাতে প্রকল্পগুলো হলো-ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মংলা বন্দরে দুটি জেটি নির্মাণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে মাল্টিমোড সার্ভিলেন্স সিস্টেম স্থাপন, ঢাকা-বাইপাস চার লেনে উন্নীতকরণ,শান্তিনগর-মাওয়া ফ্লাইওভার,হেমায়েতপুর – মানিকগঞ্জ পিপিপি সড়ক নির্মাণ,ঢাকা-চট্টগ্রাম এ্যাকসেস কন্ট্রোল হাইওয়ে,বঙ্গবন্ধু ব্রিজে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ,ফুলছড়ি বাহাদুরাবাদ মিটার গেজ রেলওয়ে ব্রিজ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড একপ্রেসওয়ে,যাত্রাবাড়ি-সুলাতানা কামাল ব্রিজ তারাবো পিপিপি রোড,লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ,খানপুরে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা,ধীরাশ্রম রেলস্টেশনে নতুন আইসিডি নির্মাণ,পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ-তে ২য় পদ্মাসেতু নির্মাণ, ৩য় সমুদ্র বন্দর।

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো মধ্যে পিপিতে রয়েছে-কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক নির্মাণ (২টি চুক্তি),মংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল,মহাখালিতে আইটি ভিলেজ নির্মাণ,মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল-২,শেরপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩,আনোয়ারা-চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল-৫, সিলেটে হাইটেক পার্ক নির্মাণ ও সিরাজগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চল-১।পর্যটন খাতের কক্সবাজারে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র্ উন্নয়ন,জাকির হোসেন রোড, চট্টগ্রামে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ,কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ (মোটেল উপল), সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন প্রতিষ্ঠা।

স্বাস্থ্য খাতেরগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনী ডায়ালিসিস সেন্টার, জাতীয় কিডনি ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটে কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার, জাতীয় কিডনি ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটে কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার, বয়স্ক নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য ও হসপিটালিটি কমপ্লেক্স নির্মাণ অবসর, সৈয়দপুরে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও রেলওয়ে হাসপাতাল আধুনিকীকরণ, পাকশীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও রেলওয়ে হাসপাতাল আধুনিকীকরণ, খুলনায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ২৫০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ, কমলাপুরে মেডিকেল কলেজ ও রেলওয়ে হাসপাতাল আধুনিকীকরণ ও চট্টগ্রাম সিআরবিতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও রেলওয়ে হাসপাতাল আধুনিকীকরণ।

আবাসন খাতেরগুলো মিরপুরে এনএইচএ হাউজিং স্যাটেলাইট টাউন নির্মাণ, পিপিপি’র ভিত্তিতে বাসস ভবন নির্মাণ, কুমিল্লায় রেলওয়ের অব্যবহৃত জমিতে হোটেল-কাম-গেস্ট হাউস ও শপিং মল নির্মাণ, চট্টগ্রামে রেলওয়ের অব্যবহৃত জমিতে হোটেল-কাম-গেস্ট হাউস ও শপিং মল নির্মাণ ও খুলনায় রেলওয়ের অব্যবহৃত জমিতে হোটেল-কাম-গেস্ট হাউস ও শপিং মল নির্মাণ এবং শক্তি খাতের পিপিপি প্রকল্প রাখা হয়েছে চট্টগ্রামের কুমিরাতে এলএনজি বটলিং প্লান্ট স্থাপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পরকিল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান প্রমুখ।

অর্থসূচক/জিইউ

এই বিভাগের আরো সংবাদ