রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে সমৃদ্ধির সোপান
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে সমৃদ্ধির সোপান

মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের কম, তেলসহ দ্রব্যমূল্যের দাম সারাবিশ্বে নিম্মমুখী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ডসহ অর্থনীতির একটি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় জাতীয় সংসদে পেশ হলো দেশের ৪৪তম জাতীয় বাজেট। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১১০ কোটি টাকার বিশাল লক্ষ্যমাত্রার বাজেট প্রস্তাবনা করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট

‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ: উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথ রচনা’ স্লোগানে বাজেট পেশ করা হলেও এতে ঘাটতির পরিমাণ সর্বকালের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।  বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩০ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকার ঘাটতি রাখা হয়েছে এ বাজেটে। অবশ্য অর্থমন্ত্রী নিজেই একে উচ্চাভিলাসী বাজেট বলে দাবি করেছেন বাজেট বক্তৃতায়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এর আগেই জাতীয় সংসদে মন্ত্রিসভায়  অনুমোদনের পর তাতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা; যাতে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণ এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে এ ঘাটতি পূরণ করা হবে।

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নতুন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর করের বোঝা বাড়বে। অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উদ্যোক্তাদের বেশ কিছু সুবিধা ও ছাড় দেওয়া হলেও বাণিজ্য উদারীকরণের লক্ষ্যে আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্কের হার কমানো হয়েছে।

বাজেটে আয়- অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা আয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে কর রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরণ হবে ২৬ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা।

বাজেট ব্যয়

বাজেট ব্যয়

বাজেট ঘাটতি-  অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে সার্বিকভাবে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ৫ শতাংশ। ঘাটতি অর্থায়নের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ থেকে নেওয়া হবে ৩০ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ৫৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা ঋণের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে আসবে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

উন্নয়ন বাজেট- আগামি অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৯৯৬ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৯৭ হাজার কোটি টাকা  ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ৩ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা এই বাজেটে অবদান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মানবসম্পদ (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য) খাতে  মোট বাজেটের ২২ শতাংশ, সার্বিক কৃষি খাতে (কৃষি, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান, পানিসম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য) ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ, যোগাযোগ (সড়ক, রেল, সেতু এবং যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য) খাতে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনুন্নয়ন বাজেট- প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার পরিমাণ চলতি অর্থবছর ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। অনুন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতে ব্যয়। মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় হচ্ছে এ খাতে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ৩৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি- বিগত কয়েক বছর মোট দেশিয় উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে নির্ধারণ করা হলেও এবার তা থেকে সরে এসেছেন অর্থমন্ত্রী। এবারের বাজেটে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ। যা চলতি অর্থবছর ৭ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি- অর্থমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক হলো মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছর মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের নিচে রয়েছে। বিশ্বব্যাপি দ্রব্যমূল্যের দাম কম থাকায় আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে জিনিসপত্রের দাম (মূল্যস্ফীতি) ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আয়কর- এবারের বাজেটে আয়করের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যক্তিশ্রেনীর করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রায় সব স্তরেই কমানো হয়েছে কর্পোরেট করের হার। শিক্ষকদের বেতন ও গ্রাজুয়িটিকে করের আওতায় আনাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে রাজস্ব আয়ের প্রধান মাধ্যম করা হয়েছে আয়করকে।

এছাড়া বেশ কিছু খাতে মূল্য সংযোজন কর আরোপ করাসহ ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে শুল্কখাতে। দেশিয় শিল্প রক্ষা ও বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ