পিপিপিতে বেড়েছে প্রকল্প, কমেছে বরাদ্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

পিপিপিতে বেড়েছে প্রকল্প, কমেছে বরাদ্দ

indexআগামী ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) বেড়েছে প্রকল্প। তবে কমেছে বরাদ্দ। এ অর্থবছরে পিপিপি খাতে ৬ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

গত বছর এই খাতে বরাদ্দ ছিলো ৮ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে খাতটিতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে মহাজোট সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম বাজেটে তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছেন।

এই খাতে ঢাকা মহানগরে এলিভেটেড এক্সপ্রসেওয়ে, মংলা বন্দরে দুইটি জেটি স্থাপন, গাজীপুরে হাইটেক পার্ক, মহাখালতি আইটি ভিলেজসহ মোট ৪২ টি প্রকল্পের বিপরীতে এই অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাঁচ বছরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে শতাধিক প্রকল্প তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি বাজেটে অর্থও বরাদ্দ রাখা হয়েছে পিপিপি প্রকল্পে। তবে এ খাতে একটি পয়সাও ব্যয় হয়নি। আলোর মুখ দেখেনি কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন। এমনকি প্রকল্পে অর্থায়ন করতে বেসরকারি খাতের সামনে কোনো প্রকল্প উত্থাপনও করা সম্ভব হয়নি। বাস্তবায়নে গতি না এলেও আগামি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৪২ টি প্রকল্প রাখা হয়েছে পিপিপি খাতে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে তৃতীয় সমুদ্রবন্দর স্থাপন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং যাত্রাবাড়ী-সুলতানা কামাল সেতু-তারাবো পিপিপি সড়কের বিষয়টি নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪২টি প্রকল্প অন্তভূক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ১৬টি, অর্থনৈতিক অঞ্চল ৮টি, পর্যটন ৪টি, স্বাস্থ্য খাতে ৮টি, আবাসন খাতে ৫টি এবং শক্তি খাতে একটি প্রকল্প রয়েছে।

পরিবহন খাতে প্রকল্পগুলো হলো-ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে,মংলা বন্দরে দুটি জেটি নির্মাণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে মাল্টিমোড সার্ভিলেন্স সিস্টেম স্থাপন, ঢাকা-বাইপাস চার লেনে উন্নীতকরণ,শান্তিনগর-মাওয়া ফ্লাইওভার,হেমায়েতপুর – মানিকগঞ্জ পিপিপি সড়ক নির্মাণ,ঢাকা-চট্টগ্রাম এ্যাকসেস কন্ট্রোল হাইওয়ে,বঙ্গবন্ধু ব্রিজে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ,ফুলছড়ি বাহাদুরাবাদ মিটার গেজ রেলওয়ে ব্রিজ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড একপ্রেসওয়ে,যাত্রাবাড়ি-সুলাতানা কামাল ব্রিজ তারাবো পিপিপি রোড,লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ,খানপুরে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা,ধীরাশ্রম রেলস্টেশনে নতুন আইসিডি নির্মাণ,পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ-তে ২য় পদ্মাসেতু নির্মাণ,৩য় সমুদ্র বন্দর।

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো মধ্যে পিপিতে রয়েছে-কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক নির্মাণ (২টি চুক্তি),মংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল,মহাখালিতে আইটি ভিলেজ নির্মাণ,মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল-২,শেরপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩,আনোয়ারা-চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল-৫,সিলেটে হাইটেক পার্ক নির্মাণ ও সিরাজগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চল-১।পর্যটন খাতের কক্সবাজারে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র্ উন্নয়ন,জাকির হোসেন রোড, চট্টগ্রামে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ,কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ (মোটেল উপল),সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন প্রতিষ্ঠা

স্বাস্থ্য খাদেরগুলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনী ডায়ালিসিস সেন্টার, জাতীয় কিডনি ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটে কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার, জাতীয় কিডনি ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটে কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার,বয়স্ক নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য ও হসপিটালিটি কমপ্লেক্স নির্মাণ অবসর,সৈয়দপুরে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও রেলওয়ে হাসপাতাল আধুনিকীকরণ,পাকশীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও রেলওয়ে হাসপাতাল আধুনিকীকরণ,খুলনায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও ২৫০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ,কমলাপুরে মেডিকেল কলেজ ও রেলওয়ে হাসপাতাল আধুনিকীকরণ ও চট্টগ্রাম সিআরবিতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও রেলওয়ে হাসপাতাল আধুনিকীকরণ

আবাসন খাতেরগুলো মিরপুরে এনএইচএ হাউজিং স্যাটেলাইট টাউন নির্মাণ, পিপিপি’র ভিত্তিতে বাসস ভবন নির্মাণ,কুমিল্লায় রেলওয়ের অব্যবহৃত জমিতে হোটেল-কাম-গেস্ট হাউস ও শপিং মল নির্মাণ,চট্টগ্রামে রেলওয়ের অব্যবহৃত জমিতে হোটেল-কাম-গেস্ট হাউস ও শপিং মল নির্মাণ ও খুলনায় রেলওয়ের অব্যবহৃত জমিতে হোটেল-কাম-গেস্ট হাউস ও শপিং মল নির্মাণ এবং শক্তি খাতের পিপিপি প্রকল্প রাখা হয়েছে চট্টগ্রামের কুমিরাতে এলএনজি বটলিং প্লান্ট স্থাপন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি নতুন ধারণাপত্র। এ বিষয়ে আগে কারো কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। পিপিপি কার্যক্রম কিভাবে চলবে তা নির্ধারণে একটু বেশি সময় লাগছে। এ-সংক্রান্ত আইন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে পিপিপি কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়ে সমস্যা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটিতে প্রকল্প অনুমোদনে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। অনুমোদনের পর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন, খরচের তালিকাসহ অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রায় এক বছর সময় লেগে যাচ্ছে। এদিকে জনবলের অভাব তো রয়েছেই। বর্তমানে পিপিপি কার্যালয়ে একজন সিইওর অধীনে চারজন ডেপুটি ম্যানেজার রয়েছেন। এ পাঁচজন দিয়েই চলছে পিপিপি কার্যালয়।

অর্থসূচক/জিইউ

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ