নগর দারিদ্র্য এ সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বিবিধ

নগর দারিদ্র্য এ সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমলেও নগর দারিদ্র্য এ সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন দক্ষিণ এশিয়া খাদ্য অধিকার সম্মেলন-২০১৫ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে আয়োজিত প্যারালাল সেশনে বক্তারা।

নগর দারিদ্র্য এ সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সোমবার দক্ষিণ এশিয়া খাদ্য অধিকার সম্মেলন-২০১৫ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের কমিটি মিটিং রুমে আয়োজিত প্যারালাল সেশনে বক্তারা।

নগর দারিদ্র্য এ সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সোমবার দক্ষিণ এশিয়া খাদ্য অধিকার সম্মেলন-২০১৫ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে আয়োজিত প্যারালাল সেশনে বক্তারা।

সোমবার সিনেটের কমিটি মিটিং রুমে  বক্তারা বলেন, নগরের বাসিন্দারা এখনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসেনি। অপুষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, নদী ভাঙ্গন এবং ভৌগলিকভাবে ভিন্ন দারিদ্র্যের কারণে গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষের চাপ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ফলে নগর বা শহরগুলোতে অতি দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ ও কনসার্ন ওয়াল্ড ওয়াইড এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমপ্রিহেনসিভ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রোগ্রাম এর ন্যাশনাল প্রজেক্ট ডিরেক্টর (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ফারুক উল ইসলাম। কনসার্ন ওয়াল্ডওয়াইড এর পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের নগরে অতিদরিদ্রদের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আসফিয়া আজিম।

এছাড়া ‘বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নদী ভাঙ্গনজনিত দরিদ্রদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ এর অতি দরিদ্র কর্মসূচির প্রোগ্রাম প্রধান নাজমুল ইসলাম চৌধুরি। অন্যদের মধ্যে উন্মুক্ত আালোচনায় অংশ নেন ইনস্টিটিউট অব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অ্যান্ড ভালনাবিলিটি স্টাডিজ এর ডিরেক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবা নাসরিন, কনসার্ন ওয়াল্ড ওয়াইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম মুসা, ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার এক্সটেনশন (ডিএএই) এর অতিরিক্ত পরিচালক (ক্যাশ ক্রপস) ইমান আলী সরদার প্রমূখ।

মূল প্রবন্ধে নাজমুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নদী ভাঙ্গনের জন্য আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যের কবলে নিমজ্জিত হয়। তাদের আর্থিক সহায়তার প্রদানের মাধ্যমে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর নদীর বাঁধে বসাবাসরত চরম দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বা উন্নয়নের জন্য নদীর চরে কার্যকরভাবে মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াশ, লেটুস ও স্ট্রবেরি উৎপাদন করে আসছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ১৫ হাজার কৃষক ৭৯৭৩ একর জমি ব্যবহার করে ৮০ হাজার মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছে। স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সমগ্র দেশের বাজার নেটওয়ার্কের কারণে যমুনার চরের অনেক কৃষক এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। আমাদের দেশে আবাদী জমি কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুতে চরকে ‘বিকল্প জমি’ হিসেবে ব্যবহার একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৬.৮ জন ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ভুগছে। আগত অতিথিরা অপুষ্টি ও দারিদ্র্যের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিকল্প খাদ্য উৎপাদন, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ, নতুনভাবে গবেষণা করা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় উন্নতিকরণ, শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া, কৃষকদের জন্য উৎপাদনমূখী অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা, স্থানীয় বাজারের সঙ্গে বিশ্ব বাজারের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, পানির বিকল্প ব্যবহার বাড়ানো, নিরাপদ খাবারের ব্যবস্থা করা, লবণাক্ত সহিষ্ণু প্রযুত্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

গত ৩০ মে থেকে শুরু হওয়া এই দক্ষিণ এশিয়া খাদ্য অধিকার সম্মেলন-২০১৫ সোমবার শেষ হয়েছে। তিনদিন ব্যাপী চলা সম্মেলনে দারিদ্র্য হ্রাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নানা সুপারিশ উঠে আসে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশসহ প্রায় ৪৩ টি বেসরকারি সংস্থা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।

বিজ্ঞপ্তি/

এই বিভাগের আরো সংবাদ