৫ বছরে বাজারের আকার বাড়বে ৮ বিলিয়ন ডলার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার
অপার সম্ভাবনা বাংলাদেশী ডেনিমের

৫ বছরে বাজারের আকার বাড়বে ৮ বিলিয়ন ডলার

Denim-Fabric-Dress

ডেনিম পোশাকে তিন মডেল

বাংলাদেশের শিল্প ও রপ্তানি বাণিজ্যে বড় একটি খাত হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে ডেনিম বা জিনস পণ্য। বিশ্বে ডেনিমের বাজার দ্রুত বড় হতে থাকায় বাংলাদেশী ডেনিমের চাহিদা বাড়ছে। অন্যদিকে ডেনিমের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক চিন অধিক মূল্যসংযোজনশীল পণ্যে মনোযোগ দেওয়ায় বাড়তি সুযোগ আসছে বাংলাদেশের সামনে।সব মিলিয়ে এ খাতে অপার সম্ভাবনা। ডেনিম উৎপাদক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিশ্বে ডেনিমের বর্তমান বাজারের আকার ৫৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সাল নাগাদ এটি ৬৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে চাহিদা বাড়বে ৮ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা)।

বর্তমানে ডেনিমের দুটি প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদার যথাক্রমে ২২.৮৮ শতাংশ ও ১১.৩৫ শতাংশ পূরণ করে বাংলাদেশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ডেনিম পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয়। ইউরোপে বাংলাদেশের চেয়ে বেশী ডেনিম পণ্য রপ্তানি করে চিন। আর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে চিন ও মেক্সিকো।

বর্তমানে বিশ্বে ডেনিম জিনসের চাহিদা ২১০ কোটি পিস। বাংলাদেশ ২০১৪ সালে ১ কোটি ৮৫ লাখ ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ কোটি ৪৩ লাখ পিস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১৪ কোটি ১০ লাখ পিস ডেনিম পণ্য (জিনসের প্যান্ট, শার্ট, জ্যাকেট, ব্লেজার ইত্যাদি) রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে।

এসব পণ্য রপ্তানি থেকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ২৫০ কোটি ডলার আয় করেছে। আলোচিত বছরে ইইউতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি। ২০১২ সাল নাগাদ এ খাতে রপ্তানি আয়ের আশা করা হচ্ছে ৭০০ কোটি ডলার।

ডেনিম পোশাকের পাশাপাশি ডেনিম ফেব্রিক শিল্পেরও সম্ভাবনা বাড়ছে। রপ্তানিমুখী ডেনিম পোশাক শিল্পে বর্তমানে যে পরিমাণ ডেনিম ফেব্রিক দরকার, তার মাত্র অর্ধেক স্থানীয় কারখানাগুলো সরবরাহ করতে পারে। চাহিদা বাকীটা পূরণ করতে হয় আমদানি করা ফেব্রিক দিয়ে। ডেনিম পোশাক রপ্তানি বর্তমানের সমান থাকলেও ফেব্রিক উৎপাদনকারী কারখানাগুলো তাদের উৎপাদনক্ষমতা দ্বিগুণ করতে পারবে। আর তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়লে তার সাথে সাথে ফেব্রিকের চাহিদা এবং সম্ভাবনাও বাড়বে।

সাশ্রয়ী শ্রম, উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের কারণে বাংলাদেশ বিশ্ব ডেনিম বাজারে নিজের অবস্থান জোরালো করতে পেরেছে। আগামী দিনে এ সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ ডেনিম প্রস্তুতকারক আর্গন ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ অর্থসূচককে বলেন, বাংলাদেশের ডেনিম খাতের সম্ভাবনা অপার। আগামী ৫ বছরে বিশ্বে ডেনিমের বাজার বাড়বে ৮০০ কোটি ডলারের। এর একটি অংশ নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ পাবে।

চিনের কৌশলগত অবস্থানও বাংলাদেশকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়ে যাওয়ায় চিন বেসিক ডেনিমের পরিবর্তে অধিক মূল্যসংযোজনশীল ডেনিমে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে চিন যে পোশাকের যোগান দিত, আগামী দিনে তা অন্য দেশ থেকে সংগ্রহ করতে হবে ক্রেতাদের । এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশই হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎস।

আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ আরও বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে এবং জ্বালানি-বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের ডেনিম শিল্প অনেকদূর এগিয়ে যাবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ