দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন ২৭ ফেব্রুয়ারি, থাকবে সেনাবাহিনী

CEC

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবুদ্দিন আহমেদচতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১১৭টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন(ইসি)। তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণ ২৭ ফেব্রুয়ারি। এছাড়া নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকীবউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে আইনশৃংখলা বাহিনীর বৈঠক শেষে এ তফসিল ঘোষণা করেন কাজী রকীবউদ্দিন আহমদ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ, অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ৪ ফেব্রুয়ারি এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১১ ফেব্রুয়ারি।

লিখিত বক্তব্যে তফসিল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী ছিল। তাই এবারের নির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।

কারণ কিছুদিন পূর্বে আমরা জাতীয় নির্বাচন করেছি। সেটার অভিজ্ঞতা খুব ভাল না । যে কারণে আমরা এবারের উপজেলা নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা ভাবছি। এছাড়া  বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।

কত সংখ্যক সেনা মোতায়েন থাকবে জানতে চাইলে বলেন, গতবারের ন্যায় থাকবে। গতবারের সংখ্যা থেকে কমানো হবে না। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নির্দলীয় নির্বাচন। এখানে জামায়াত-বিএনপি আর আওয়ামী লীগের কোনো হিসাব নাই। যে কেউ ইচ্ছা করলেই এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। আমরা কোন রাজনৈতিক দলের প্রতীকের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে এমন কোন প্রতীক বরাদ্ধ দেব না।

এসম তিনি আরও বলেন, যদিও এটা নির্দলীয় নির্বাচন কিন্তু এখানে রাজনৈতিক দলের মতামত প্রতিফলিত হবে। প্রার্থীরা যে কোনো দলের সমর্থক হতে পারবে।

চার উপজেলায় নির্বাচন বন্ধ করার বিষয়ে রকীব উদ্দিন বলেন, প্রথম ধাপের ১০২ উপজেলার মধ্যে ৪ উপজেলার নির্বাচন বন্ধ করার জন্য স্থানীয় সরকার থেকে চিঠি এসেছে। সে অনুযায়ী ওই গুলোকে বাদ দিয়ে আমরা নির্বাচন করব। এ ৪ আসনে সিমানা নির্ধারণে সমস্যা রয়েছে। সেটা ঠিক হলে সেখানে নির্বাচন করা হবে।

এসব উপজেলাৱগুলো হল: রংপুর সদর, কাওনিয়া, গঙ্গাচড়া ও পীরগাছা।

মেয়াদ শেষ অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন হতে যাওয়া ১১৭টি উপজেলা হলোঃ পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলা, বগুড়া জেলার আদম দিঘী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর, নাটোর জেলার সদর উপজেলা, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর, নেত্রকোণা জেলার বারহাট্রা, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি, গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা, বান্দরবান জেলার রুমা, টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর, জামালপুর জেলার ইসলামপুর, ঢাকা জেলার সাভার, ফেনী জেলার পরশুরাম, নোয়াখালী জেলার চাটখোল, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ, লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্দা, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী, জয়পুরহাট জেলার কালাই, বগুড়া জেলার কাহালু, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা ও মিরপুর, মাগুরা জেলার শালিখা, নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া, চাঁদপুর জেলার সদর, ফরিদগঞ্জ, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি, দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর, ঘোড়াঘাট, নওগাঁ জেলার সদর, ফরিদগঞ্জ, নাটোর জেলার লালপুর, পাবনা জেলার চাটমোহর ও ভাংগুড়া, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া, ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ, নরসিংদি জেলার শিবপুর, চাঁদপুর জেলার মতলব(দ:), চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া, খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি, রাঙামাটি জেলার ননিয়ার চর, ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকাইল, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ, লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট, নওগাঁ জেলার সদর, রাজশাহী জেলার বাঘা,   সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, পিরোজপুর জেলার কাওখালী, নেত্রকোনার পূর্বধলা, মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানা, মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর, ও হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট।

ব্রহ্মনবাড়ীয়া জেলার সরাইল, নোয়াখালী জেলার সদর ও কবিরহাট, জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল, মেহেরপুর জেলার গাংনি, যশোর জেলার বাঘারপাড়া ও শার্শা, বরিশাল জেলার সদর, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ, ফরিদপুর জেলার সালথা, সিলেট জেলার বালাগঞ্জ, কুমিল্লা দেবীদ্বার, চাঁদপুরের হাইমচর, চট্টগ্রামের লোহাগড়া, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাংগি, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ, নাটর জেলার গুরুদাসপুর, কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী, মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর, রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর, কুড়িগ্রাম জেলার নগেশ্বরি, যশোর ঝিকরগাছা, ভোলা বোরহানউদ্দিন, জামালপুর জেলার মেলান্দহ, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, ময়মনসিংহের ভালুকা, মাদারীপুর জেলার শিবচর, কুমিলা জেলার মনোহারগঞ্জ ও লাকশাম, চাদপুর জেলার মতলব (উ:), নোয়াখালী জেলার কম্পানীগঞ্জ, বান্দরবান জেলার লামা, লালমনিরহাট সদর, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর, নওগাঁর বদলগাছি, নাটর জেলার বাগাতী পাড়া, যশোরের চৌগাছা, বাগেরহাটের ফকিরহাট, ভোলা চরফ্যাশন, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর,  নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা, ফরিদপুরের নগরকান্দা, সুনামগঞ্জ জেলার সদর, ফেনী জেলার সদর, জয়পুরহাটের সদর, বগুড়া জেলার শাজাহানপুর ও শিবগঞ্জ, নওগাঁ জেলার আত্রাই ও সাপাহার, ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর, মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর, মাদারীপুর জেলার রাজৈর, বান্দরবানের থানছি, বাগেরহাট জেলার কচুয়া, ময়মনসিংহের সদর, সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই এবং নোয়াখালী জেলার সোনইমুড়ি।

কবির/