খুলনায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

boro-dhan

boro-dhanখুলনা জেলায় শীত এবং ঘন কুয়াশা দেরিতে পড়ায় বোরো ধানের চারা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শতকরা ১০ ভাগ চারা বেশি উৎপাদন হয়েছে। ধানের চারা উৎপাদন ভালো হওয়ায় খুলনা মেট্রোসহ জেলার ৯ উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ৪৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এসব জমিতে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকসহ কৃষি কর্মকর্তারা।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে খুলনা জেলায় চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলায়  লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৮০৮ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৮৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শতকরা ১০ ভাগ চারা বেশি উৎপাদন হয়েছে।
অন্যদিকে, চারার উৎপাদন ভালো এবং সারের সংকট না থাকায় মহানগরীসহ খুলনার ৯ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৪৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে মহানগরীতে ১৪.৫০ হেক্টর, রূপসায় ৫৬.৫০ হেক্টর, বটিয়াঘাটায় ৩৫.২৭ হেক্টর, দিঘলিয়ায় ৪০০০ হেক্টর, ফুলতলায় ৪৬০০ হেক্টর, ডুমুরিয়ায় ২০,০০০ হেক্টর, তেরখাদায় ৬.২০৯ হেক্টর, দাকোপে ১০০ হেক্টর, পাইকগাছায় ১৯১৪ হেক্টর এবং কয়রায় ১২০০ হেক্টর জমিতে। ২০১২-১৩ সালে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ হাজার ৪৮২ হেক্টর।
গতবারের চেয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। শতভাগ অর্জিত হবে বলে আশা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
খুলনা জেলাধীন বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকার কৃষক মোঃ আব্দুল্লাহ জানান, এবার চারার উৎপাদন ভালো হয়েছে। যেকারণে বেশি জমিতে বোরো আবাদ করার হয়েছে। তিনি জানান, আবাদকৃত বোরো ধানে এবার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা কোথাও কোন রোগ বালাই কিংবা বিরূপ আবহাওয়া নেই।
ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের একজন কৃষক লিয়াকত সরদার জানান, তিনি গতবার ২ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। এবার শীত ও কুয়াশা অগ্রিম না আসায় চারা উৎপাদন ভালো হওয়ায় তিনি ৩ বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন। বর্তমান সারের অভাব নেই। ফলে ভালো ফলনের আশাও করছেন তিনি।
খুলনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিপিএস শেখ মো. শহিদুজ্জামান জানান, এ বছর বীজ তলায় চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা যা নির্ধারণ করা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে। চাষের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। বীজ, সার সঠিকভাবে যেহেতু কৃষকেরা পাচ্ছে সেহেতু শতভাগ অর্জিত হবে বলে আশা করছেন তিনি।