ঝিনাইদহে সাউন্ড-সিস্টেম ব্যবসায় মন্দা

maike busness

maike busnessচরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ভয়েজ রেকর্ডিং ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসা। সাউন্ড ব্যবসার ভরা মৌসুমেও চাহিদা না থাকার কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। দীর্ঘ সময়ে ধরে ব্যবসায় মন্দাভাব না কাটায় সংশ্লিষ্ট শতাধিক পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। রোজগারের আশায় অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

কালীগঞ্জ শহরে সাথী মাইক, দেশ মাইক, সৌখিন মাইক, মিতালী মাইক, সালমান মাইক অ্যান্ড আকবর ভয়েজ, বীনা সাউন্ড, আমান ডিজিটাল, ভাইভাই মাইক নামের ছোট বড় ৯ থেকে ১০ টি সাউন্ড ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু ব্যবসা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কালীগঞ্জের সাউন্ড ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রসাশনের অনুমতি না মেলা ও বক্তাদের মাঝে গ্রেপ্তার আতংক বিরাজ করায় এ বছরে পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াজ মাহফিল  হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, পূর্বে ওয়াজ মাহফিল কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের অনুমতি লাগতো না। কিন্তু এখন এ সকল অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের অনুমতি লাগে। আয়োজকদের বরাত দিয়ে তারা আরও জানান, অধিকাংশ সময় নাশকতার ভয় ও নিরাপত্তার অভিযোগ তুলে প্রশাসন এ জাতীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি দিচ্ছে না। এছাড়া গ্রেপ্তার আতংকে ওয়াজ মাহফিলের বক্তারাও মাহফিলে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করতে পারছেন না আয়োজকরা। তাছাড়া সিডির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ক্যাসেট এখন আর তেমন কেউ শোনে না। ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এই শিল্প।

কালীগঞ্জের সালমান মাইক অ্যান্ড আকবর ভয়েজের স্বত্বাধিকারী আকবর জানান- বছরের কার্তিক, অগ্রায়হণ, পৌষ, মাঘ এই ৪ মাস সাউন্ড ব্যবসার ভরা মৌসুম। অন্যান্য বছর মৌসুমের এ চার মাসে তার কমপক্ষে ৪০০টি ভয়েজ রেকর্ডিং থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং প্রচার মাইক থেকে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা আয় হতো। কিন্তু এ বছর ৪০ হাজার টাকাও আয় হয়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে সাথী মাইকের স্বত্বাধিকারী রিংকু জানান, প্রতি বছর শীতের মৌসুমে ওয়াজ মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে তার কমপক্ষে ২-৩ লাখ টাকা আয় হলেও এ বছরে আয় প্রায় শূন্যের কোটায়। আয় না থাকায় দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীর বেতন পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

তাই প্রশাসনের সহযোগিতার জোর দাবি জানান সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীরা।

কেএফ