রাজশাহীতে ২৫ হাজার ৯৭৭ হেক্টর জমিতে ডাল চাষ

dal

dalবরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজশাহী জেলায় কম সেচের ফসলের দিকে ঝুকছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ২৫ হাজার ৯৭৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ডাল চাষ হয়েছে। বাড়তি কৃষি ফসল হিসেবে ডাল জাতীয় ফসলের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এবার জেলার অনেক জমিতে মশুর, মাসকলাই, ছোলা, অড়হড় ও খেসারি চাষ হয়েছে। ডাল জাতীয় ফসলে একদিকে সেচ কম লাগে অন্যদিকে উৎপাদন খরচও কম। আর দাম ভাল থাকায় জেলায় প্রতিবছরই আবাদের পরিধি বাড়ছে। গতবারের চেয়ে এ বছর রাজশাহী জেলার প্রায় ৩ হাজার ১০৯ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এ বছর রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ডাল জাতীয় ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২৩ হাজার ২৬১ হেক্টর। আবাদ হয়েছে  ২৫ হাজার ৯৭৭ হেক্টর। যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে মাসকলাই বাদে ২১ হাজার ৬০২ মেট্রিকটন। যার মধ্যে মশুর ১৫ হাজার ৭৪৫ হেক্টর, খেসারি ৪৯১ হেক্টর, ছোলা ৩ হাজার ৫২ হেক্টর, মটর ১৮০ হেক্টর, অড়হড় ১৯ হেক্টর ও মাসকলাই ৬ হাজার ৪৯০ হেক্টর। গত বছর জেলায় ডাল আবাদের চাষ হয়েছিল ২২ হাজার ৮৬৮ হেক্টর। তার আগের বছরে চাষ হয়েছিল ১৭ হাজার ৬০৭ হেক্টর। গত কয়েক বছর ধরে এই আবাদের মাত্রা বাড়ছে।

বর্তমানে রাজশাহী জেলায় মাঠ জুড়ে শীতের সবজির পাশাপাশি মাসকলাই বাদে অন্যান্য ফসল ডালের আবাদও চোখে পড়বে। আরও চোখে পড়বে ছোলা ও খেসারির ক্ষেতে গৃহবধূ,  কিশোরী ও শিশুরা শাকসবজি তোলায় ব্যস্ত। ডাল বাদেও শাক হিসেবে বিক্রির জন্য এসব আবাদের কদর দিন দিন বাড়ছে। বাজারে ভাল দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব ফসলের শাক। খেসারি শাকের দাম ৩২ থেকে ৪০ টাকা এবং ছোলা শাকের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি কেজি।

এবার জেলায় মাসকালাই ডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এর মধ্যে মাসকলাই ডালের আবাদ জমি থেকে তোলা হয়েছে। এবার মাসকলাইয়ের আবাদ হয়েছিল ৬ হাজার ৪৯০ হেক্টর। ফলন বাম্পার এবং বাজারে দাম ভালো থাকায় বেশ লাভবান হয়েছে মাসকালাই চাষিরা। বর্তমানে মশুর, ছোলা, খেসারি, অড়হড় ও মটর আবাদ মাঠে রয়েছে। কৃষি ফসলের অন্যান্য আবাদের থেকে এসব ফসল চাষ করে অনেক চাষিই লাভবান হচ্ছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম বেশি, উৎপাদন খরচ ও সেচ কম লাগায় এসব আবাদের প্রতি ঝুকেছেন কৃষকরা। এবার মশুর ডালের আবাদ জেলার পবা, পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় বেশি হয়েছে। আর ছোলা বেশি হয়েছে জেলার বরেন্দ্র খ্যাত অঞ্চল তানোর ও গোদাগাড়ি উপজেলায়।

পবা উপজেলার পুঠিয়া গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, এই এলাকায় গভীর নলকুপ স্থাপনের আগে অনেক জমিতে খরা সহিষ্ণু ফসল মশুর, ছোলা, খেসারি ডাল আবাদের চাষ হতো। খেসারি আবাদে জমি চাষের কোনো প্রয়োজন হয় না। আমন ধানের ক্ষেতের মধ্যে খেসারি বীজ ছিটিয়ে দিলেই আবাদ হয়ে যায়। আবার ছোলা ও মশুর আবাদে শুধু একবার চাষ দিয়ে বুনে দিলেই হয়। এছাড়াও মাসকলাই ছায়াযুক্ত জমিতেও আবাদ হয়। বিশেষ করে উচু ভিটা জমিতে মাসকলাই চাষ হয়ে থাকে। এখন গভীর নলকুপ স্থাপনের পর থেকে ওই সব জমিতে আলু এবং ধানের আবাদ হওয়ায় এসব ডাল ফসলের চাষ কমতে থাকে। বর্তমানে একদিকে ধানের দাম উৎপাদনের চেয়ে কম থাকা, বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং শ্রমিক খরচ বেশি অন্যদিকে বাজারে ডালের দাম বেশি এবং উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় আবারও এসব আবাদের দিকে ঝুকছেন চাষিরা।