শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home পুঁজিবাজার ছয় ব্যাংকে রিফান্ড ভোগান্তি

ছয় ব্যাংকে রিফান্ড ভোগান্তি

ছয় ব্যাংকে রিফান্ড ভোগান্তি
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ

টাকাপুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) অকৃতকার্য বিনিয়োগকারীদের রিফান্ড ওয়ারেন্ট নিয়ে দুর্ভোগ কমছে না। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবস্থা নেই এমন ছয়টি ব্যাংকের গ্রাহকদের রিফান্ড ওয়ারেন্টের টাকা পেতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।

গত কয়েক বছর ধরেই প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) অনেকগুণ আবেদন জমা পড়ছে। নির্ধারিত সংখ্যার  বেশী আবেদন জমা পড়লে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর অকৃতকার্য আবেদনকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। আগে এক ধরনের বিশেষায়িত চেকের মাধ্যমে এ অর্থ ফেরত দেওয়া হত, একে রিফান্ড ওয়ারেন্ট বলে। অনলাইন ব্যাংকিং চালু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা চেকের পরিবর্তে অনলাইনে ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, অনলাইন হয়নি বা ডিজিটালাইজেশনে পিছিয়ে আছে এমন ব্যাংকের সংখ্যা ছয়টি। এর মধ্যে সরকারি চারটি ও দুইটি বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে । বেসরকারি ব্যাংক দুটি হলো ইউসিবিএল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড। আর সরকরি ব্যাংকগুলো হচ্ছে সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক লিমিটেড।

ভুক্তভোগিরা বলছেন, যেখানে গ্রামের সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ডিজিটাল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে সেখানে শহরে থাকার পরও তারা ডিজিটাল সুযোগ পাচ্ছে না। ডিজিটাল যুগে এই ব্যাংকগুলোতে অনলাইন সেবা না থাকার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঠিক মনিটরিং-এর অভাবেকেও দায়ী করেন কেউ কেউ।

ডিজিটালাইজেশনে পিছিয়ে  থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল হামিদ। তবে এই পরিস্থিতির খুব দ্রুত পরিবর্তন হবে বলেও জানালেন তিনি।

তিনি জানান বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ১৬৫ টি শাখায় অনলাইন সেবা চালু আছে। চলতি জানুয়ারি মাসে আরও ৩০ টি শাখায় এই সেবা চালু করা হবে।

আর প্রতি মাসে ৩০ টি করে শাখায় অনলাইন সেবা চালু করার মাধ্যমে এই বছরই ব্যাংকটির মোট ৬০০ শাখায় অনলাইন সেবা চালু করা হবে।

এ বিষয়ে ভেন্টেজ সিকিউরিটিজ হাউজের বিনিয়োগকারী মোঃ হেদায়েত ওহাব অর্থসূচককে বলেন, এক মাসে তিনটা আইপিও থাকলে এটা সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে করতে গেলে আমাদের ভোগান্তি বাড়ে। যেখানে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে করলে সহজে করা যায়।

আরেক বিনিয়োগকারী ফেরদৌস আলম চৌধুরী অর্থসূচকে বলেন, রিফান্ডের টাকা ফেরত পেতে সরকারি ব্যাংকগুলোতে সময় লেগে যায়। এতে সরকারি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহক আস্থা কমে যাচ্ছে।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক ভোগান্তি এড়াতে অনলাইন সেবা চালু করা উচিৎ। আর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোম্পানিগুলোর প্রতি নজরদারি রাখা উচিত তারা যেন নির্দিষ্ট সময়ে রিফান্ডের টাকা ফেরত দেয় বিনিয়োগকারী।