তারেককে খালাস দেওয়া বিচারপতির বিরুদ্ধে ৩ অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

দুদক

দুদকসদ্য অবসরে যাওয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভা্ইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অর্থপাচার মামলায় খালাস দেওয়া বিচারপতি মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে ৩টি অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে কমিশনের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদক কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানান দুদকের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন চম্পু।

দুদক কমিশনার বলেন,  বিচারপতি মোতাহার হোসেনের এর বিরুদ্ধে তারেক রহমানের বিচারপতি হিসেবে নয় বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। তিনি একজন বিশেষ জজের মর্যাদায় বিচারকের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও ঘুষ নিয়ে আসামিদের খালাস দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো বিষয় জড়িত নয় । দুই সপ্তাহ আগে মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে সংস্থাটির কাছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিজস্ব সূত্রে খবর নেয় সংস্থাটি। অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই বিস্তারিত অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

সূত্র জানায়, বিচারপতি মোতাহার হোসেন নিন্ম আদালতের বিচারক থাকাকালীন সময়ে বেশ কয়েকটি মামলার রায় প্রদান করেন। এরমধ্যে বসুন্ধরার পরিচালক হুমায়ুন কবির সাব্বির হত্যা মামলা ও তারেক রহমানের বিদেশে অর্থ পাচার মামলা।

দুদক সূত্র জানায় ৩টি অভিযোগকে আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে কমিশন। অভিযোগ অনুসন্ধান কালীন তিনি যাতে দেশের বাহিরে যেতে না পারেন সেজন্য তার বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরে সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানকৃত প্রথম অভিযোগটি হলো বিদেশে অর্থ পাচার। দুদকের কাছে অভিযোগ রয়েছে তিনি লন্ডনে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তার ছেলে সেখানে উচ্চ খরচে পড়াশুনা করেন। এসব কাছে অর্থ প্রদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো নির্দেশনা মানেননি। অনেক ক্ষেত্রে এসব অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংককে না জানিয়ে চালান করেছেন। তাছাড়া তার যে আয় তাতে বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষমতা তার থাকার কথা নয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ হলো তিনি নামে বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। ঢাকা শহরের দুটি স্থানে ফ্লাট বাড়িসহ নিজ জেলা পাবনাতে বেশ কিছু জমি ক্রয় করেছেন। দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তার নিজের ও পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নামে বেশ কিছু হিসেবে বড় অংকের টাকা জমা রয়েছে। ফ্লাট বাড়ি, জমিসহ ব্যাংক হিসেবে মোটা অংকের টাকা দুদকের কাছে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত বলে প্রমাণিত হওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

তৃতীয় অভিযোগে জানা যায় বিচারপতি মোতাহার হোসেন নিন্ম আদালতের বিচারক থাকা কালে বড় বড় কয়েকটি মামলায় ঘুষ নিয়ে আসামিদের খালাস দিয়েছেন। এর মধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক হুমায়ুন কবির সাব্বির হত্যা মামলায় গ্রুপের মালিকের ছেলে সাফিয়াত সোবহান সানবীসহ ৫ আসামিকে বসুন্ধরায় ফ্লাট বাড়ি পাওয়ার বিনিময়ে বেকসুর খালাস দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচারক হিসেবে এ মামলার রায় দেন তিনি। এছাড়া বেশ কয়েকটি মামলায় ঘুষ নিয়ে আসামির সাজা কম দেওয়া ও খালাস দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আর সর্বশেষ অবৈধভাবে বিদেশে অর্থপাচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গত ১৭ নভেম্বর বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন বিচারক মোতাহার হোসেন। মোতাহার হোসেন সে সময় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার আগে মোটা অংকের ঘুষ  নিয়ে এ মামলার রায় দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ আসে দুদকের কাছে।