দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় ঘুষের কারণে সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণরা

katoali thana (1)

katoali thana (1)বাংলায় একটি প্রবাদবাক্য রয়েছে যে যায় লংকায় সেই হয় রাবন। এই প্রবাদটি দিনাজপুর কোতয়ালী থানার জন্য একটি বাস্তব চিত্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে পুঁজি করে ঘুষ বাণিজ্য থেকে শুরু করে নানা ধরনের দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বদলী হয়ে যাওয়া কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জের আমলে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে, টাকা ছাড়া কোন বিচার প্রার্থী মামলা নথিভুক্ত করতে পারেনি। যা এক সময় শহরের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে যায়। সে অফিসার ইনর্চাজ বদলী হয়ে নতুন অফিসার ইনর্চাজ থানার দায়িত্বভার নিয়ে যোগদান করেন। কিন্তু অফিসার বদলালেও বদলায়নি কোতয়ালী থানার চলমান নিয়ম ও কর্মকর্তাদের তৈরি করা নিজেদের আইন ও ঘুষের বিভিন্ন কৌশল।

সাধারণ বিচার প্রার্থীরা আইনের আশ্রয় নিতে কোতয়ালী থানায় গেলে কর্তাবাবুরা নানা অযুহাত দেখিয়ে টালবাহানা করেন। বিচার প্রার্থী কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারের কাছে অভিযোগপত্র  দাখিল করলে সেই অভিযোগের জন্য টাকা না দেওয়ায় অভিযোগটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে এই থানায়।

কয়েকজন ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, এই থানায় দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুষ বাণিজ্য রমরাম চলছে। সাধারণ মানুষ কোন অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে সেই অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় না। কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার কিংবা অফিসার ইনচার্জ অথবা যে কোনো থানা পুলিশ সদস্যের কাছে গেলেই কিভাবে ঐবিচার প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া যাবে এর বিভিন্ন কৌশল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

এছাড়া এর মধ্যে কিছু নিয়মতো রযেছেই। ভুক্তভোগীদের একজন সদর উপজেলার বড়ইল এলাকার মৃত রমজান খানের ছেলে গরীব-অসহায় সালাউদ্দিন ভোলা (৫৫) জানান, তার মেয়ে ফাবিয়া বেগমকে তার স্বামীর বাড়ির লোকজনেরা গত ১২ জানুয়ারি বেদড়ক মারধর করে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ফাবিয়া গুরুত্ব আহত হয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। ভোলা তরা মেয়েকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে দিনাজপুর আসে। গত ৪ দিন থেকে কোতয়ালী থানায় তার মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়ে মামলা করার জন্য থানায় আসলেও তা নথিভুক্ত করছেনা। পুলিশের কর্তাবাবুরা বলেছেন, মামলা করতে গেলে নগদ অর্থ লাগবে। কি করবে অসহায় ভোলা একদিকে শরীরের ৩১ ভাগ পুড়ে যাওয়া অসুস্থ্য কন্যা ফাবিয়ার চিকিৎসা খরচ অন্যদিকে মামলা করতে লাগবে নগদ অর্থ। ঘুষের অর্থ জোগার করতে না পারায় ভোলার মেয়ের নির্যাতনের বিষয়ে এখনও মামলা হয়নি।

শুধু ভোলা নয় এ রকম অনেক ভোলা এসে থানার খোলা আঙ্গিনায় সেন্ডেল খয় করেন একটু আইনের আশ্রয় পাওয়ার জন্য। সম্প্রতি ১৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার সময় শহরের বালুবাড়ী এলাকার শিরিন আক্তার নামের একজন ভুক্তভোগী তার স্বামীর নির্যাতনের বিষয়ে একটি অভিযোগ তৎকালীন ডিউটি অফিসারে দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারকে দিলে তা পরবর্তীতে হারিয়ে যায়। শিরিন পরে থানায় খোঁজ নিয়ে দেখে সে থানায় কোন ধরনের অভিযোগ করেননি। এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা যায় যে, কোন অভিযোগ প্রার্থী অভিযোগ করলে তাকে কোন ধরনের সত্যায়ন কপি বা প্রমাণ পত্র দেওয়া হয় না। তৎকালিন দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার এ বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে শিরিনের অভিযোগটি ছড়িয়ে ফেলেছে। দিনে দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসাররা থানা হাজতে আটক থাকা আসামীদের দেখা করার জন্য আলাদা ফি গ্রহণ করে থাকে বলে বিভিন্ন আটককৃত আসামীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে জানা যায়।

কোতয়ালী থানার এ রকম দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার সাধারণ মানুষ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণসহ স্থানীয় দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও দিনাজপুরের কৃতি সন্তান ইকবালুর রহিমের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেছেন যে, কোতয়ালী থানায় সাধারণ মানুষ আইনের আশ্রয় নিতে আসলে কোন ধরনের হয়রানীর স্বীকার যেন না হয় তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।