বিসিক শিল্প এলাকায় সার্ভিস চার্জ বাড়ানোর পরামর্শ শিল্পমন্ত্রীর

Shilpo-Montri--2বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে সার্ভিস চার্জ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। জেলা পর্যায়ে স্থাপিত শিল্পনগরীগুলোতে উদ্যোক্তা সেবা জোরদার করতেই তার এই পরামর্শ। তার মতে এটা সম্ভব হলে সামগ্রিক রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে শিল্পনগরীগুলোতে সার্ভিস চার্চ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পনগরীর সার্ভিস চার্জ বাড়াতে হবে। এই চার্জ বাড়িয়ে উদ্যোক্তাদের উন্নত সেবা দিতে হবে।’

মন্ত্রী এ সময় দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আধুনিক ডিজাইন ও ঋণ সহায়তা বৃদ্ধির কথাও বলেন।

এছাড়া যুগের চাহিদা অনুযায়ী বিসিকের সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি একটি কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণের নির্দেশনা দেন তিনি।

এ সময় তিনি শিল্পায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ঋণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে লবণ চাষিদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন শিল্পমন্ত্রী। সেই সাথে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের হাত থেকে চাষিদের রক্ষা করতে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার ব্যপারেও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

লবণ চাষিদের গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন,‘এই খাতটিকে আগামিতে আরও এগিয়ে নিতে হলে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে হবে।’

সভায় মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন চলতি বছর আগের বছরের চাইতে বেশি লবণ উৎপাদিত হবে।

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে দেশে এ পর্যন্ত ১৬ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। ২০১২-২০১৩ মৌসুমে দেশে মোট লবণের উৎপাদন ছিল ১৬ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন।

বৈঠকে শিল্প সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জি.এম. জয়নাল আবেদীল ভূইয়া, বিসিক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ শিল্প মন্ত্রণালয় ও করপোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা শিল্পমন্ত্রীর সাথে দেখা করে তাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান।

তারা চলতি ইরি-বোরো মৌসুমেও অতীতের মতো সারের সুষ্ঠু সরবরাহ ও বিপণনে সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।