বুয়েট শিক্ষককে সন্দেহ অভিজিতের বাবার

Avijit-roy
অভিজিৎ রায়-ফাইল ছবি
Avijit-roy
অভিজিৎ রায়-ফাইল ছবি

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী জড়িত বলে সন্দেহ করছেন তার বাবা অধ্যাপক অজয় রায়।

শুক্রবার সকালে ঢাবির আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ‘নাগরিক কমিটি’ আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে এ সন্দেহের কথা জানান পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক এ শিক্ষক।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস হতে চললেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে শিবিরের কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতাসহ নিজ অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়েছে বলেও এসময় তিনি উল্লেখ করেন

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকায় একুশে বইমেলার কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে অভিজিৎ রায়কে গুরুতর জখম করে। হাসপাতালে নেওয়ার কিছু পরই তিনি মারা যান। এবারের মেলায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এ লেখকের দুটি বই প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় অভিজিৎ রায়ের সাথে থাকা তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতর আহত হন। তিনি প্রথম ঢাকা মেডিকেলে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।

ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ড. অজয় রায় জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন অভিজিৎ-বন্যাকে বইমেলায় একটি আড্ডায় ডাকে ফারসীম মান্নান। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অভিজিৎ ও তার স্ত্রী অবস্থান করে। পরে তারা বিজ্ঞান লেখকদের এক আড্ডায় যোগ দেয়। ওই আড্ডায় ১১ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৪-৫ জন অনাহূত ব্যক্তি ছিল। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।

অজয় রায় বলেন, ‘ফারসীম মান্নানের গতিবিধি ও তার চরিত্র আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হচ্ছে; যে ফেসবুকের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই আলোচনার ব্যবস্থা করে। যাতে ১১ জন আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে ৪-৫ জন ছিলেন অনাহূত; তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনাহূতদের বুয়েটের ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওই শিক্ষকই (ফারসীম মান্নান) ডেকে আনে।’

অভিজিতের বাবা জানান, ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত উদ্যানে প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের অনুষ্ঠানে ছিল তার ছেলে ও পুত্রবধূ। পরে ছায়াবিথী ও অবসর প্রকাশনীর স্টলের মাঝে ত্রিপল বিছানো উন্মুক্ত স্থানে সেই আড্ডায় বসেন তারা। সেখানে রাত ৮টা পর্যন্ত বিজ্ঞান বিষয়ে আলোচনা হয়।

পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন- উল্লেখ করে অজয় রায় বলেন, “‘জিরো টু ইনফিনিটি’ ও ‘পাই’ নামে দুটো বিজ্ঞান ম্যাগাজিনের সদস্য ছিলেন ওই অনাহূত ব্যক্তিরা। যদিও ঘটনাস্থলে ‘জিরো টু ইনফিটির’ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন তাদের সঙ্গে রাগারাগি করেন।”

তিনি জানান, তোমাদের কারা আমন্ত্রণ করেছে- একপর্যায়ে জানতে চাইলে অনাহূতরা দাবি করেন, ‘স্যার (ফারসীম মান্নান) তাদের ডেকেছেন। এগুলো অভিজিৎ জানত না। পরে অভিজিৎকে দেখে তারা সেখান থেকে উঠে চলে যায়।

ছেলে হারানোর শোকে কাতর অজয় রায় জানান, ওই আলোচনা শেষে বাইরে আসার পরই রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে অভিজিৎ-বন্যাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

এসব তথ্য গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) সদস্যদের জানানো হয়েছে বলে জানান ঢাবির সাবেক এ শিক্ষক।

ড. অজয় রায় বলেন, ‘আমি পুরো বিষয়টি গোয়েন্দাদের জানিয়েছি। এরপর এক মাসের মতো সময় পার হতে যাচ্ছে। তবে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে হয় না।’

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এ শিক্ষাবিদ।

ঢাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নূহ উল আলম লেনিন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী, প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী, স্বনামধন্য ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী এবং প্রবীণ রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টচার্য প্রমুখ।

এ সময় অভিজিতের বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী, প্রকাশক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।