সচল হচ্ছে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার

খাতুনগঞ্জ পাইকারী বাজার

খাতুনগঞ্জ পাইকারী বাজারদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশিল পরিস্থিতির কারণে ক্রমেই স্থবির হয়ে পড়ছিল অন্যতম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ।তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে দেশের অন্যতম এ পাইকারি বাজারটি।

গেল বছরের শেষ চার মাসের প্রায় পুরো সময়ে হরতাল-অবরোধের কারণে পরিবহন ও আনুষাঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজার ছিল প্রায় ক্রেতাশূন্য।এমন পরিস্থিতিতে স্থবির ছিল চট্টগ্রামের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী কার্যক্রম।

ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারী বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের সর্বশেষ চার মাসের লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে মোট লেনদেন ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকা। যা অক্টোবরে ২৪ হাজার, নভেম্বরে সাড়ে ৭ হাজার এবং ডিসেম্বরে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।অর্থাৎ গেল চার মাসের ব্যবধানে লেনদেন কমে আসে ৮৫ শতাংশেরও বেশী। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কমে আসায় চলতি মাস শেষ হবার আগেই মোট লেনদেন ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেচা-কেনা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সবকটি পথ এখন পণ্যবাহী যানবাহনের দখলে। ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানে পণ্য ওঠানামানোতে ব্যস্ত সময় পার করছে শ্রমিকেরা।ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি আর হিসাব নিকাশে ব্যস্ত ছিল বাজারের সবকটি দোকান। হরতাল অবরোধের অজুহাতে পরিবহন খাতে যে ভাড়া বেড়ে গিয়েছিল তা না থাকায় ন্যায্য খরচে যথাসময়ে বাজারে পৌছে যাচ্ছে সব ধরনের আমদানি পণ্য। কমে গেছে পোঁয়াজ , আদা, চাল-ডালসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম। ক্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতি আর শ্রমিক-মজুরের হাঁকডাকে মুখর পুরো বাজার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাক,ভ্যান নৌকায় বোঝাই করে পণ্য নিয়ে যাচ্ছে দূর দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়ার পর বাজারের এমন অবস্থায় খুশি ব্যবসায়ীরা। সবকিছু ঠিক থাকলে গেল বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে এমন আশা তাদের।

সোমবার সকালে বাজার থেকে তিনশতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। মাঝিরঘাট এলাকার ১৬ টি ঘাট দিয়ে সকাল থেকে পণ্য বোঝাই শতাধিক নৌকা পাশের কয়েকটি উপজেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সগির আহমদ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে আসায় আমদানি পণ্যে বাড়তি ভাড়াসহ পরিবহন জটিলতা কমে আসার সব ধরনের পণ্যের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় চলে এসেছে। বেড়ে গেছে বেচা-কেনা। সব কিছু ঠিক থাকলে গেল কয়েক মাসে ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে পারবে। আমদানিকারকরা নির্ভয়ে তাদের আমদানি করা পণ্য গোডাউনে তুলতে পারবে । দেশের ভোগ্যপণ্যের প্রায় ৪৭ শতাংশের আমদানি করে এ বাজারের আমদানিকারকরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ বাজার থেকে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করা হয় বিদায় এ বাজারের দরদামের সাথে নির্ভর করে সারা দেশের দরদাম।

আমদানিকারক তৈয়বুর রহমান জানান, দেশের অন্যতম এ বাজারটিতে যেখানে দিনে লেনদেন হতো এক হাজার কোটি টাকা সেখানে গেল চার মাসে দৈনিক লোকসার গুনতে হয়েছে দৈনিক কয়েক কোটি টাকার মতো। সম্প্রতি সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে আসায় এ বাজারটি প্রাণ ফিরে আসছে। বাজারে সারাদিন ক্রেতার ভীড় থাকায় খুশী বিক্রেতারা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসলে দেশের অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাড়াবে বলে মনে করেন তিনি।